রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

শর্ত পূরণ হলেই জিএসপি

49882_f3

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পাওয়া নির্ভর করছে কারখানার কর্মপরিবেশ ও ত্রুটিপূর্ণ গার্মেন্টগুলো সংস্কার করার ওপর। কারণ যুক্তরাষ্ট্র শিল্পে শতভাগ নিরাপত্তা চায়। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত দেখতে চায়। এসব শর্ত পূরণ হলেই বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে পারে। তিনি বলেন, জিএসপি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা আমার হাতে নয়। আমি চাইলেও দেয়া সম্ভব নয়। এটি কংগ্রেসে নির্ধারিত হয়। সুতরাং, এ বিষয়ে কংগ্রেসে শক্তভাবে বাংলাদেশের যুক্তি (আর্গুমেন্ট) তুলে ধরা প্রয়োজন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইউএস বাংলাদেশ ট্রেড টাইস: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ড্যান ডব্লিউ মজিনা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুলতান মাহমুদ ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান।
মজিনা বলেন, আর যেন কোন রানা প্লাজার ধস দেখতে না হয়। কিংবা আর কোন তাজরীনের অগ্নিকা- না ঘটে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সফল হলে বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ডিং তৈরি হবে, যা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্থানে আবির্ভূত করবে।
বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মজিনা বলেন, বাংলাদেশ-আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হলো আমেরিকা। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা হলো অন্যতম। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম উৎস এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী অংশীদার এ দেশটি। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এই অর্থনেতিক সম্পর্ককে আমেরিকা আরও সমৃদ্ধ দেখতে চায়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ আগামীতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের আকাঙিক্ষত স্থান হবে। তবে এজন্য আইনের শাসনকে উন্নত, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমাতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এ সময় মজিনা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘বাঘ’ বলে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উদীয়মান সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক পথ ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় করিডরের প্রধান যোগসূত্র এবং সর্ববৃহৎ দ্রব্য রপ্তানিকারক দেশ হবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগসূত্রের ফলে এ অঞ্চলের সবাই উপকৃত হবে। বাংলাদেশের জনশক্তি আর অদক্ষ হিসেবে পরিগণিত হবে না। বরং হবে চিকিৎ?সক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, দক্ষ কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি এবং আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে দেখা তার স্বপ্ন বলে জানান মজীনা।
ড্যান মজিনা বলেন, সমপ্রতি আমি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেছি। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদের দেশ। এখানকার ভূমি, পানি, পরিবেশ, গ্যাস, কয়লা ও জনগণ দেশটির উন্নয়নে কার্যকরী সম্পদ। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এদেশের মানুষর কঠোর পরিশ্রমী, সৃষ্টিশীল এবং উদ্যোগী। এশিয়ান টাইগার হতে কাঙিক্ষত শিল্প উন্নয়নে এসব সম্পদের পাশাপাশি বিশাল যুবশক্তিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। যুব শক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করতে পারলে জনশক্তি রপ্তানি খাতেও বাংলাদেশের গুণগত উন্নতি হবে।
এশিয়ান টাইগার হওয়ার প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাঙিক্ষত উন্নতি করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদেরকে উচ্চ বেতন দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধাবীদের আগ্রহী করতে হবে। তাছাড়া স্কুলগুলোতে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ইন্টারনেটের ব্যাপক সুযোগ দিতে হবে। এতে শিক্ষার মান বাড়বে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করতে হবে। এতে দেশের শিল্পে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। তাছাড়া অবকাঠামো খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশব্যাপী সড়ক ও রেল যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কটের কথা প্রতিনিয়ত বলছেন। এশিয়ান টাইগার হতে হলে এ সঙ্কট দূর করতে হবে। চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যুতের সরবরাহ দরকার। এজন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে সরকার আমদানি করতে পারে। তাছাড়া জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনে গুরুত্ব দেয়া দরকার। এগুলো সম্পন্ন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন বজায় রাখা জরুরি। তবেই দেশের শিল্পখাত উন্নত হবে। উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড্যান মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ট্যারিফ বাবদ বাংলাদেশ বড় অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে এমন সংবাদ ঠিক নয়। অনেক সময়ই বাংলাদেশের সংবাদপত্রে এ ধরনের খবর লেখা হয়, যা ঠিক নয়। বরং এসব পোশাকে যে ট্যারিফ রয়েছে তা আমেরিকার ভোক্তারা বহন করেন।