মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লারাকে টপকে সাঙ্গার ১০ ডাবল সেঞ্চুরি

1_132709

গলে পাকিস্তানের বোলিং গলে পড়লো কুমার সাঙ্গাকারার আগুনে ব্যাটিংয়ে। চতুর্থ দিন পুরোপুরি নিজের করে নিয়ে সাঙ্গা একটা কীর্তি গড়লেন। শনিবার নিজের দশম ডাবল সেঞ্চুরি করে তিনি টপকে গেলেন ব্রায়ান লারাকে। তার সামনে এখন শুধু ডন ব্যাডম্যান (১২টি দ্বিশতক)। ১৯৯ রানে পিছিয়ে দিনটা শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। সাঙ্গাকারার ডাবল সেঞ্চুরি (২২১) এবং শতকবঞ্চিত অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের মধ্যে চতুর্থ উইকেটে ১৮১ রানের পার্টনারশিপে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলংকা। তারই
জেরে ৭৮ রানের লিড। ৫৩৩/৯-এ ম্যাথিউস নিজেদের প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করার পর পাকিস্তান দুসরা দফা ব্যাট করতে নেমে ছয় ওভারে চার রান তুলতেই খুররম মনজুরের উইকেট হারায়।
চা-বিরতির আগে লংকা দলপতি ম্যাথিউস পঞ্চমবার নড়বড়ে নব্বইয়ের শিকার হন। শেষ তিনবারই পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ৯১ রানে। কিন্তু দিনটা ছিল সাঙ্গাকারার। এদিন ১৫০ টপকানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যাডম্যানকে স্পর্শ করেন। ব্র্যাডম্যানও টেস্টে ১৫০ কিংবা তার বেশি রানের ইনিংস খেলেছেন ১৮ বার। তবে সকালে প্রথম বলেই জুনায়েদ খানের শিকারে পরিণত হতে পারতেন সাঙ্গাকারা। এরপর ১৬৮ রানে আবারও ‘জীবন’ পান ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। এবার হতভাগ্য বোলার সাঈদ আজমল। দিনের চতুর্থ বলে
মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ফেরালেও গোটা দিন দাপট
দেখিয়েছে স্বাগতিকরাই।
চতুর্থ দিনের খেলার শুরুতেই দ্বিতীয় নতুন বল পাকিস্তানের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আতে পারত। প্রথম বলেই জুনায়েদ সাঙ্গাকে ফিরিয়ে দিতে পারতেন। পয়েন্টে ক্যাচ নিতে পারেননি আবদুর রেহমান। চতুর্থ বলে লেগ বিফোর হন জয়াবর্ধনে। দ্বিতীয়বার সাঙ্গাকারা রক্ষা পান ইউনুস খানের সৌজন্যে। আজমল সেই দুঃখ কিছুটা ভোলেন
ম্যাথিউসকে সেঞ্চুরিবিমুখ করে। এবার স্লিপে ক্যাচ নিতে ভুল করেননি ইউনুস।
সাঙ্গাকারা ১৯৯-তে পৌঁছে খানিকটা নার্ভাস ছিলেন। শেষে আজমলের ডেলিভারি পয়েন্টে ঠেলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ক্লান্ত পাকিস্তানি ফিল্ডাররা ছয় সেশন মাঠে ছিলেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিন ২০ মিনিট ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই এক উইকেট হারান তারা। আজ শেষ দিনে প্রচণ্ড চাপে থাকতে হবে তাদের। ক্রিকইনফো।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ৪৫১ (ইউনুস খান ১৭৭, আসাদ শফিক ৭৫, সরফরাজ আহমেদ ৫৫, আবদুর রেহমান ৫০। হেরাথ ৩/১১৬, পেরেরা ৫/১৩৭)।
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
থারাঙ্গা এলবিডব্ল– ব জুনায়েদ ১৯ ১৫ ৪ ০
সিলভা ক সরফরাজ ব তালহা ৬৪ ১৪০ ১১ ০
সাঙ্গাকারা স্টা. সরফরাজ ব রেহমান ২২১ ৪২৫ ২৪ ০
জয়ার্বধনে এলবিডব্ল– ব জুনায়েদ ৫৯ ১১২ ৭ ০
ম্যাথিউস ক ইউনুস ব আজমল ৯১ ১৮৮ ৯ ১
ভিথানাগে ক শফিক ব আজমল ৫ ২২ ০ ০
ডিকওয়েলা ক শফিক ব আজমল ৫ ৭ ১ ০
পেরেরা ক জুনায়েদ ব আজমল ৫ ২১ ১ ০
প্রসাদ স্টা. সরফরাজ ব আজমল ৩১ ৩৫ ২ ২
হেরাথ নটআউট ৬ ১৮ ১ ০
অতিরিক্ত ২৭
মোট (৯ উইকেটে ডিক্লেয়ার) ৫৩৩
উইকেট পতন : ১/২৪, ২/১৪৪, ৩/২৫৭, ৪/৪৩৮, ৫/৪৫০, ৬/৪৫৮, ৭/৪৭৫, ৮/৫১১, ৯/৫৩৩।
বোলিং : জুনায়েদ ৩৩-৯-১০৪-২, তালহা ২৭-৪-১০৪-১, সাঈদ আজমল ৫৯.১-৮-১৬৬-৫, রেহমান ৩৯-২-১২৩-১, শেহজাদ ৫-০-২০-০।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস রান বল ৪ ৬
মনজুর ক ডিকওয়েলা ব হেরাথ ৩ ১৩ ০ ০
শেহজাদ নটআটট ১ ১৮ ০ ০
আজমল নটআউট ০ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত ০
মোট (১ উইকেটে, ৬ ওভারে) ৪
উইকেট পতন : ১/৩।
বোলিং : হেরাথ ৩-২-৩-১, এরাঙ্গা ১-১-০-০, পেরেরা ২-১-১-০।