সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ঢাকায় আসতে সম্মত মিয়ানমার

ডেস্ক-

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে ঢাকা আসতে সম্মত হয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন মিনিস্টার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এইচ ই দাউ অং সান সু চি।

রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকায় ফিরে এলেই তারিখ ঠিক করা হবে। আশা করা হচ্ছে, সামনে মাসের শুরুতেই এই আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।

এদিকে গত বুধবার জাপানের নিকি এশিয়ান রিভিউ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি জানান, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া যেকোনো মুহূর্তেই শুরু হতে পারে। বিষয়টি যেমন আমাদের ওপর নির্ভর করছে তেমনি একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের ওপরও। বাংলাদেশ সরকারের ইচ্ছা ছাড়া সেখানে যাওয়া এবং এ প্রক্রিয়া শুরু অসম্ভব। তাছাড়া আমরা এ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে পারি; তার মানে এই নয় যে এটা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে… আমরা যে কোনো মুহূর্তেই শুরু করতে পারি। কারণ এটা নতুন কিছু নয়। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ১৯৯৩ সালে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমানমার উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশ সরকার তাতে রাজিও হয়েছিল।

এর আগে গত মঙ্গলবার জাতীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সুচি জানিয়েছিলেন, সেই চুক্তি অনুসরণ করেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। সেসময় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত রোহিঙ্গারাই শুরু দেশে ফিরে যেতে পেরেছিলো। ফলে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হলে অনেক রোহিঙ্গাই দেশে ফিরতে পারবে না।

অপরদিকে মিয়ানমারে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউর রহমান রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা ও চলমান সেনা অভিযানের পর বারবার দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা চাইলেও তা পাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দেশটির সরকারকে সরাসরি জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র গত ১২ সেপ্টেম্বর জানায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউর রহমান ১১ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজাধানী নেপিডোয় স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির কার্যলয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উ কিয়াও থিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তারপরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানালে তাদের মন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। সামনে মাসের শেষে তিনি ঢাকা সফর করতে পারেন।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইনে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই।