শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রুদ্ধশ্বাস জয় পাকিস্তানের

16281_f2

 

এইতো দু’দিন আগে এবারকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্ভবত সবচেয়ে বাজে ম্যাচটি খেলেছে পাকিস্তান। হয়তো বিশ্বকাপ বলেই ভারতের কাছে তারা হেরেছে যাচ্ছেতাইভাবে। গতকাল    পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
মিরপুরেও ঘটতে যাচ্ছিল প্রায় একই রকম ঘটনা। আগে ব্যাট করে ওমর আকমলের ৯৪ রানে ভর করে ১৯১ রানের টার্গেট দেয় পাকিস্তান। ১৯২ রানের টার্গেট, তারপরও হারতে বসেছিল ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হতে দেননি শহীদ আফ্রিদি, সাঈদ আজমল, ওমর গুলরা।। শুরুতে যারাই ডোবাতে যাচ্ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তারাই দলকে জেতালেন ১৬ রানে। এতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লড়াই ফিরে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ঘটনা। কামরান আকমল আর ওমর আকমলের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯২ রানের টার্গেট দিয়েছিল পাকিস্তান। গতকালও এই দুই ভাইয়ের কল্যাণ সমপরিমাণ টার্গেট দেয় তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট লুসিয়ার ওই ম্যাচে মাইক হাসির দুর্দান্ত এক ইনিংসে তিন উইকেটে জিতে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল মিরপুরেও ঘটতে গিয়েছিল প্রায় একই রকম ঘটনা। সেন্ট লুসিয়া যে কাজটি করে ছিলেন মাইক হাসি, কাল যেন তা করতেই মাঠে নেমেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে হাসির মতো শেষ হাসিটি হাসতে পারেননি এই অসি ব্যাটসম্যান। শেষ হাসিটা তিনি না হাসলেও চার ছক্কার ফুল ঝুড়িতে হাসিয়েছেন মিরপুরের দর্শকদের। জুলফিকার বাবরের জোড়া আঘাতে প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ব্যাট করতে নামেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর তিনি যা করেন, তা লিখে বোঝানোর উপায় নেই। মাত্র ৩৩ বল ব্যাট করেন এই অসি ব্যাটসম্যান, করেন ৭৪ রান। যা তার ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সর্বাধিক সংগ্রহ। যার মধ্যে ছিল ছয়টি চোখ ধাধানো ছয়, আর সাতটি চারের মার। তার আর আরন ফিঞ্চের কল্যাণেই লড়াই করে অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইংনিসে সর্বাধিক রানের মালিক ফিঞ্চ এদিনও খেলেন ৬৫ রানের এক ইংনিস। এই দুজনের কল্যাণেই ৮ ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করে অস্ট্রেলিয়া। যার মধ্যে ৮ ওভারে বিলওয়াল ভাট্টি একাই দেন ৩০ রান। ১১.৪ ওভারে দলীয় ১২৬ রানে ৭৪ করা মাক্সওয়েলকে মিডউইকেটে শেহেজাদের ক্যাচে পরিণত করেন আফ্রিদি, এতেই ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে অধিনায়ক বেলি আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচটি তখনই কঠিন হয়ে পরে। এরপর ফিঞ্চ লড়াই করলেও সাঈদ আজমল ও ওমর গুলের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। ১৬২ রানে ফিঞ্চ আজমলের বলে বোল্ড হলে ম্যাচের পাল্লা ঝুলে পড়ে পাকিস্তানের দিকে। শেষ দিকে ওমর গুল ব্রাড হগ ও কালটার নাইল এবং শেষ ওভারে বিলওয়াল ভাট্টি ব্রাড হজকে বোল্ড করে ১৭৫ রানের গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর, শহীদ আফ্রিদি, ওমর গুল, বিলওয়াল ভাট্টি দুটি করে এবং সাঈদ আজমল একটি উইকেট দখল করেন।
এর আগে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় অসি অধিনায়ক জর্জ বেইলি। শুরুতে ছন্ন ছাড়াই ছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওভারে ৭ রান করে ডগি বলিঞ্জারে হাতে ধরা পড়েন শেহজাদ। অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজও বেশিদূর এগুতো পারেননি। দলীয় ২৫ রানে ১৩ করে ফিরেছেন ওয়াটসনের বলে বোল্ড হয়ে। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জোড়া উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বিপর্যয়ের মুখে ঠিক তখনই আকমল ভাইয়েরা পাল্টা প্রতিরোধে। মাত্র ৮.৩ ওভারে দুই ভাই তোলেন ৯৬ রান। ১১.২৯ রেটে রান তুলে দুই আকমল এ সময় রীতিমতো অসহায় করে তোলেন অস্ট্রেলীয় বোলারদের। ১২.৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহকে ১২১-এ তুলে দিয়ে কামরান যখন আউট হন, বিপর্যয়কে অনেক পেছনে ফেলে পাকিস্তান তখন স্বপ্ন দেখছে বড় সংগ্রহ গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানোর। কামরানের সংগ্রহ ছিল ৩১। বড় ভাই বিদায় নিলেও ওমর আকমলের ৯৪ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২০ ওভারে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ১৯১ রান। প্রথম পাকিস্তানি আর টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের মাত্র সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির কৃতিত্বটা পেতে পেতেও পেলেন না ওমর। এর বদলে সপ্তমবারের মতো কোন ব্যাটসম্যানের নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়া দেখল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। তার পরেও পাকিস্তান বড় রানের পুরো কৃতিত্বের প্রায় পুরোটাই দাবি করতে পারেন ওমর আকমল। প্রায় এক হাতেই ইনিংসটিকে টেনে নিয়ে গেছেন। আক্রমণ শানিয়েছেন বিপুল বিক্রমে। মাত্র ৫৪ বলে তার ৯৪ রানের ইনিংসে চারের মার ৯টি, ছয় ৪টি। ওমর আকমল সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থেমে যান স্টার্কের বলে লং অনে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ধরা পড়ে। ওমর আকমলের দারুণ ইনিংসের পাশাপাশি শেষ দিকে শহীদ আফ্রিদির ঝোড়ো ইনিংস ছিল দারুণ কার্যকরী। মাত্র ১১ বলে ২০ রান করে আফ্রিদি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার কালটার নাইল দুটি স্টার্ক বলিঞ্জার ও ওয়াটসন একটি করে উইকেট দখল করেন।

 

উৎস- মানবজমিন