বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রাজশাহীতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

dr_81822
রাজশাহীতে চিকিৎসক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে জেলার সব হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। এর ফলে চরম দুর্ভোগে হাজার হাজার রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজশাহীর বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মবিরতি শুরু করেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।
ডলফিন ক্লিনিকে চিকিৎসা-অবহেলায় একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছিল। এ মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্লিনিকের মালিক ডা. শামিউল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (১) এর বিচারক বিশ্বনাথ চন্দ্র মন্ডল একইসঙ্গে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পূর্ণ তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ডা. শিমুল বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক।
কর্মবিরতির কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকশ রোগী হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বর্হিবিভাগে সেবার জন্য অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থানরত রোগীরাও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটির অনেক সঙ্কটাপন্ন রোগীর অভিভাবকরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন।
বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডা. তবিবুর রহমান শেখ বলেন, ডা. শিমুলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটি হয়রানি বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই ডা. শিমুলকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের চিকিৎকরা কর্মবিরতি পালন করবেন।রামেক হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আ স ম বরকতুল্লাহ জানান, চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেবেন।প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর জামায়াত-শিবির কর্মীদের হামলায় চাঁপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক টিপু (৩৫) গুরুতর আহত হলে প্রথম দফায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। আবারো অসুস্থ হলে ২৯ জানুয়ারি ডা. শামিউল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুলের মালিকানাধীন মহানগরীর ডলফিন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত ১০টার দিকে পায়ে অস্ত্রোপচারের সময় টিপু মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুল চিকিৎসায় স্বামীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে ক্লিনিকের মালিক ডা. শিমুল ও অজ্ঞাত দুই চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন টিপুর স্ত্রী শারমিন আক্তার। এ মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্লিনিকের মালিক ডা. শিমুলকে কারাগারে পাছানোর নির্দেশ দেন আদালত। ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রাজশাহীর সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন মালিকরা।
উৎস- যুগান্তর