মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রাজধানীতে আর কোনো প্লটের প্রকল্প নয় : পূর্তমন্ত্রী

pic-18_95036

রাজধানী ঢাকার আবাসন সমস্যা সমাধানে রাজউকের মাধ্যমে বা সরকারিভাবে আর কোনো প্লটের (একখণ্ড জমি) প্রকল্প নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সুপরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন : পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বেসরকারি উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) সেমিনারটির আয়োজন করে।মন্ত্রী বলেন, প্লটের চেয়ে ফ্ল্যাটের মাধ্যমে অল্প জায়গায় অধিক লোকের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬২ হাজার, উত্তরা তৃতীয় ফেজে ১৮ হাজার এবং ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ৩০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত সরকারি বাড়িতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার্সে পরিণত করা হবে। বিদ্যমান কোয়ার্টারগুলোতেও বহুতল ভবন নির্মাণ করে সরকারি বাসার সংকট দূর করা হবে।মন্ত্রী আরো বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধানমণ্ডি, বনানী, গুলশান, বারিধারা, নিকুঞ্জ, পূর্বাচলসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। এসব আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে করা হয়নি। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ এসব এলাকা গড়ে তোলা হয়। কিন্তু দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিষয় গুরুত্ব দিয়ে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে।ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী টেবিলের নিচে দিয়ে অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজউকের দোষত্রুটিসহ সব দুর্বলতা চিহ্নিত করে এই প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানো হবে। তিনি আরো বলেন, খুব সহসাই রাজউকে অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। প্রয়োজনে মন্ত্রীর অফিসও রাজউক ভবনে স্থানান্তর করা হবে।গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, তেজগাঁও শিল্প এলাকাকে বাণিজ্যিক কাম আবাসিক এলাকায় পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনে হাতিরঝিল প্রকল্পের সঙ্গে বনানী-গুলশান লেককে সংযুক্ত করে দাসেরকান্দি পর্যন্ত নেওয়া হবে। দাসেরকান্দিতে একটি পরিশোধনাগার স্থাপন করে পরিষ্কার পানি নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। দেশের অন্যান্য জেলা থেকে ঢাকামুখী মানুষের আগমন রোধ করতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এ উদ্দেশ্যেই ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন আইবিএফবির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ড. হুমায়ুন কবীর প্রমুখ

উৎস- কালেরকন্ঠ