শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মীরসরাইয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দিশেহারা সাধারন ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চলতি রমজানে সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রেখে জনসাধাণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার কথা বললেও তা মানছে কে? রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার যেন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠি ও সারাদিন রোজা রেখে ইফতার আর সেহেরীর খাবার জোগাড় করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।মীরসরাইয়ের একাধিক বাজারে সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্রই দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিটি সবজিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। দু’দিন আগেও যে বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা অর্ধেকেরও বেশি দামে ১০০-১২০টাকা বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে। শশা প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতিকেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, কাকরল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ১০০থেকে ১১০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা, গাঝর ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, লালশিম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

অপরদিকে মুদি পণ্য গুলোও আগের চেয়ে অনেকটা ছড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, পেঁয়াজ প্রতিকেজি, ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আদা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, চাউল প্রতিকেজি (মোটা) ৩০ টাকা, (চিকন) ৪৪ টাকা, সয়াবিন প্রতিলিটার (খোলা) ৯০ টাকা, বোতল ১১০ টাকা, মশুরডালপ্রতিকেজি ৮৫ টাকা, মুগডালপ্রতিকেজি ১০০ টাকা, চনাবুট কেজিপ্রতি ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। এছাড়াও মোরগ/মুরগি প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালী ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশী ৩০০ টাকা, ডিম প্রতি হালি, ২৮ থেকে ৩০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস হাঁড়সহ প্রতিকেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, হাঁড়ছাড়া ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। আর খাসী প্রতিকেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা দামে বিকিকিনি হচ্ছে। তবে গরুর মাংস নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে প্রতিনিয়ত এক ধরনের ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বারইয়ারহাট বাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা কয়েক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে তারা জানান, রোজা শুরুহওয়ার আগেও গরুর মাংস ২৮০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ছাড়িয়ে ৩২০ টাকায়এসেছে। এভাবে যদি প্রণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাব? তাই আমাদের দাবী প্রতিনিয়ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন কমিয়ে আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়।

গরুর মাংসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বারইয়ারহাট বাজারের গরুর মাংস ব্যবসায়ী নুরু মাঝির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে গরুর দাম আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। তাই আমাদেরকেও নিরুপায় হয়ে খুচরা দাম বাড়াতে হচ্ছে। এদিকে কাঁচা সবজির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ফজলুল করিম জানান, আমরা পাইকারী যে দামে ক্রয় করি তার চাইতে ৫ টাকা লাভে বিক্রি করি। পাইকারী দাম যদি বেড়ে যায় এতে আমাদের কি করার আছে।

বাজার নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে জানতে চেয়ে মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন এরকাছে জানতে চাইলেতিনি বলেন আগামী দু’একদিনের মধ্যে আমরা বাজার মনিটরিং শুরু করবো। সরকারের দেয়া পণ্যেও মূল্য তালিকা প্রতিটি বাজাওে সাঁটিয়ে দেয়া হবে এবং সরকারের দেয়া মুল্যের সাথে চলতি বাজারের পণ্যের দাম মিল আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখাহবে। যদি মিলনা থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।