মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মীরসরাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর দৈন্যদশা

খবরিকা ডেস্ক :

20140825_104603 - Copy
মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে মীরসরাইয়ের বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আট-দশ বছরেও হয়নি এসব বাজারে কমিটির সাধারণ নির্বাচন। সিলেকশনের মাধ্যমে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি দেখানো হলেও নেই এদের যথাযথ কার্যক্রম। পদাধিকার বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা কমিটির সভাপতি হলেও তাদের দায়িত্বহীনতায় চাপা পড়ছে বাজারের উন্নয়ন! আবার বাজারের ড্রেন সংস্কার, আর্বজনা পরিস্কার ও বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব ইজারাদারদের উপর থাকলেও চরম অবহেলায় বর্তমানে বাজারগুলোর অবস্থা বেশ করুণ।

সরেজমিনে উপজেলার বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মীরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌর এলাকা, করেরহাট, শান্তিরহাট, বাংলাবাজার, জোরারগঞ্জ, আবুরহাট, ঝুলনপোল, বামনসুন্দর দারোগারহাট, দূর্গাপুর ভরদ্বাজ চৌধুরীহাট, মিঠাছড়া, সুফিয়াবাজার, কমলদহ, সরকারহাট, সাহেরখালী, হাদি ফকিরহাট, ভোরেরবাজার, ভূঁইয়ারহাটসহ বেশ ক’টি বাজারে নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা। দখল, দূষণ আর অব্যবস্থাপনায় বাজারগুলোতে নেই আগের সেই জমজমাট অবস্থা। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা থাকলেও সেসব ভরাট হয়ে গেছে নিত্যদিন দোকানীদের যত্রতত্র ভাবে ফেলে যাওয়া আর্বজনায়। অনেকে বাজারের ফুটপাত দখল করে চালাচ্ছে সবজি-তরকারি আর ফলের দোকান। সরকারি মালিকানাধীন জায়গাগুলো প্রভাবশালীরা দখলের মাধ্যমে মাটি ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করায় বন্ধ প্রায় পানি চলাচলের রাস্তা। যত্রতত্র ময়লা আর্বজনার স্তুপ, ফুটপাত দখল, অব্যবস্থাপনা ও দূষণের জন্য মেয়াদ উর্ত্তীণ বাজার কমিটি ও বর্তমান কমিটির দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারের কোন উন্নয়ন না হওয়ায় বাজার কমিটি ও ইজারাদাররা একে অপরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্ধীর অভাবে নির্বাচন হচ্ছে না বলে সিলেকশন কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করলেও মূলত প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় বাজার কমিটির সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে না বলে মত প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা। আবার পদাধিকার বলে বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানরাও জোর দোষ চাপাচ্ছেন ইজারাদারদের উপর। তারা বলছেন, ‘ড্রেন সংস্কার ও আর্বজনা পরিস্কার করার দায়িত্ব ইজারাদারদের উপর, কিন্তু তারা তাদের দায়িত্বের চরম অবহেলা করছে।’

করেরহাট : ২০০১ সালে করেরহাট বাজার কমিটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ তিন বছর আগে তিন মাস মেয়াদের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এখনো পর্যন্ত নেই নির্বাচনের কোন উদ্যোগ। আবার প্রতিবছর করেরহাট বাজার ইজারা দেয়া হলেও ন্যূনতম উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের। এমনকি প্রাচীন বাজার হলেও এখানে নেই কোন স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগারের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের কোন কমিটি না থাকায় প্রায় সময় চুরির ঘটনা ঘটছে। যত্রতত্র দোকানপাট, সড়ক দখল করে সিএনজি স্ট্যান্ড, সড়কে কাঠের স্তুপসহ বিভিন্ন কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন দোকানের বাহিরে ফুটপাতে গড়ে উঠছে অসংখ্য টিনের দোকান। সবজি দোকানগুলোও রাস্তার উপর। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা আসলেও অজ্ঞাত কারণে এ সংক্রান্ত কোনো কমিটি বা কার্যক্রম এখনও গৃহিত হয়নি।
এ বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বাজারে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বাজার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইজারাদারদের। আর সাধারণ নির্বাচন না হওয়ার কারণ হিসেবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেই দায়ী করেন তিনি।’

মিঠাছড়া : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত মিঠাছড়া বাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য অন্যসব বাজারগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যত্রতত্র আর্বজনা ও অপরিকল্পিত দোকানপাট নির্মাণে নষ্ট হচ্ছে বাজারের সৌন্দর্য। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ক’টি গলিই ময়লা আর্বজনায় ভরা। এমনকি বাজারের বিশেষ বিশেষ গলি ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে ফলের দোকান। এসব দোকানিরা রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। মিঠাছরা বাজার কমিটি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘ দুই বছর আগে বাজারে সিলেকশন কমিটি হয়েছে। তবে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে প্রায় ৮-৯ বছর পূর্বে। দোকানিদের থেকে মাসিক ৬০/৮০/১০০ টাকা হারে আদায় করা চাঁদা থেকে দারোয়ান ও ঝাড়–দারদের বেতন দেয়া হয়। তবে বাজার উন্নয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রায় ২৪/২৫ লক্ষ টাকা থাকলেও ৭-৮ বছরেও হয়নি সে টাকার কোন সদ্ব্যবহার। পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান জাফর চৌধুরী কমিটির সভাপতি থাকলেও তার দায়িত্বহীনতায় বাজারের এমন বেহাল অবস্থা।’ ফুটপাত দখল করে অবৈধ ভাবে ফলের দোকান থাকার বিষয়টি উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকবার অবৈধ দোকানদাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করেও বার বার আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ।’

দূর্গাপুর : দূর্গাপুর বাজার কমিটিরও সাধারণ নির্বাচন হয়নি বিগত ৮ বছর। যদিও দুই বছর পূর্বে একবছরের জন্য নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ওই কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হবার পর তিন মাসের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি গঠন করে দেয়। সেই কমিটি দিয়েই চলে এই বাজার। প্রতি বছর এ বাজার ইজারা দিয়ে থাকনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু ইজারার টাকা নিয়ে আর কোন খোঁজ খবর রাখেন না প্রশাসন, বলে দাবী করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
ইজারার শতকরা ৫ ভাগ টাকা বাজার উন্নয়নের জন্য চেয়ারম্যানের হাতে আসে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করলেও দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, ‘আমার কাছে কোন টাকা আসে না। আমার তৎপরতায় বাজারে মাছের একটি শেড় ও একটি ড্রেন করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স বিহীন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অনেকে।’ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি এবং ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তারপর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’

বামনসুন্দর দারোগারহাট : স্থানীয় বাজার গুলোর মধ্যে মিঠানালা, কাটাছরা, এছাকড্রাইভার হাট, ঝুলনপোল, দূর্গাপুর সহ পার্শ্ববর্তি কয়েকটি ইউনিয়নের জন্য বামনসুন্দর দারোগারহাটই ক্রেতা-বিক্রেতাদের পছন্দের অন্যতম বাজার। কিন্তু বৃষ্টিপাত ও দোকানিদের ফেলা যত্রতত্র ময়লা আর্বজনায় বাজারের বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। বেশ কয়েকটি মোড়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গিয়ে ছড়াচ্ছে দূর্গন্ধ। বাজারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ঢগায় বাজারের এমন বেহাল দশা হলেও দেখার কেউ নেই ! ইজারাদার কমিটির অন্যতম সদস্য সামছুল করিম চৌধুরী শামীম বলেন, ‘বিগত দশ বছরেও হয়নি বাজার উন্নয়ন কমিটির নির্বাচন। বছর দুয়েক আগে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। নেতৃত্ব শূণ্য থাকার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ হচ্ছে না বাজারের। টুকিটাকি সংস্কার কাজ চালাচ্ছে বাজার ইজারার দায়িত্বে থাকা নেতারা। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব অবহেলাও অনুন্নয়নের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘সরকারি ভাবে এই বাজারের জন্য ৩টি ডীপ টিউবয়েল ও ২টি টয়লেট স্থাপনের বরাদ্ধ দেয়া হলেও প্রশাসনিক ভাবে এ কাজের কোন তৎপরতাই দেখা যাচ্ছে না।’
কাটাছরা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার সবুজ জানান, ‘বাজার কমিটির নির্বাচন হবার কথা থাকলেও রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় প্রার্থীরা দ্বন্ধে জড়িয়ে আর নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থ এতে করে ড্রেনের ব্যবস্থা করা যাবে না। প্রথমে বাজারের মধ্যকার সড়কটি উঁচু করতে হবে। তারপর নির্ণয় করা যাবে কিভাবে, কোন পথে ড্রেন সংস্কার করা যায়। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারের মধ্যকার সড়কটির কাজ শুরু হবে। এটি পূর্বের তুলনায় উঁচু করা হবে। ভবিষ্যতে এই বাজারে দুটি ডাস্টবিন করার পরিকল্পনা আছে। তবে বাজার উন্নয়ন, ড্রেন ও আর্বজনা নিষ্কাশন এসব বিষয়গুলো ইজারাদারদের দায়িত্ব পড়ে। তারা দায়িত্বশীল হলে বাজারের উন্নয়ন করা সম্ভব।’

শান্তির হাট : গত ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের ভোটে সভাপতি পদে ওয়াহেদ উল্ল্যাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়নাল আবেদিন নির্বাচিত হয়। সে সময় ১৮ জন সদস্য নিয়ে শান্তিরহাট বাজার কমিটি গঠিত হয়েছিলো। এরপর প্রতি তিনবছর পরপর নির্বাচন দেয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত হয়নি কোন সাধারণ নির্বাচন। উক্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হলে বাজার ব্যবসায়ীরা নির্বাচন দিতে বললে নির্বাচন না দিয়ে তৎকালীন পৌর মেয়র জালাল আহমেদ সিলেকশনের মাধ্যমে পূর্বের কমিটি বহাল রাখে। তখন ব্যবসায়ীরা এ কমিটির বিপক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। যার প্রেক্ষিতে শান্তিরহাটের লিলি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আলাদা করে নতুন কমিটি করে। এতে করে বর্তমানে এ বাজারটি দুটি কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাজার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন জানান, ‘ বাজারের দু’পাশে দু’টি আলাদা কমিটি রয়েছে। শান্তিরহাট বাজারটা পৌরসভার আওতায় থাকলেও পৌরসভা থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না। পৌরসভা থেকে বাজারের মধ্যে ড্রেন করে দিলেও ময়লা আর্বজনায় সেটি ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

কমর আলী : কমরআলী বাজার খুব বড় না হলেও সমস্যার অন্তঃ নেই এখানে। তরকারি বাজার যেন পুরোটাই ময়লা ফেলার ডাস্টবিন। বাজার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম উদ্দিন খবরিকাকে জানান, ‘কমর আলী বাজারে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে উপযুক্ত লোক না থাকায় গত ১০ বছরেও হয়নি সাধারণ নির্বাচন। তিনবছর আগে সিলেকশন কমিটি হলেও কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সক্রিয়তা না থাকায় বাজারের উন্নয়নমূলক কোন কাজই হচ্ছে না।’

ভোরেরবাজার : ময়লা আর্বজনার স্তুপে ভরা সাহেরখালী ভোরেরবাজারও, নেই কোন নির্দিষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বাজারের অধিকাংশ অংশে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। সবজি বাজারের ময়লা আবর্জনা ইজারাদাররা পরিষ্কার করালেও অন্যান্য অংশের ময়লা আবর্জনা রাস্তার উপরই থেকে যায়। এদিকে বাজারে নেই কোন নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি। সর্বশেষ ২০০৩ সালে নির্বাচন হলেও এরপর থেকে সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে চলছে বাজার ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী থেকে গড়ে ২ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হলেও নৈশ প্রহরীর সম্মানী ছাড়া বাজারের উন্নয়নের কোন উদ্যোগ নেই এ কমিটির। এ বিষয়ে ভোরের বাজারের সিলেকশন কমিটির সভাপতি আবু জাফর বাজার অনুন্নয়নের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বাজারে ব্যবসায়ী বা বাইরের কোন পক্ষের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে স্থায়ী ভাবে ড্রেন করে দেয়ার জন্য আবেদন করা হলেও তার কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।’

হাদি ফকিরহাট : এক সময় আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান কেন্দ্র ছিলো হাদি ফকিরহাট। বড় দারোগারহাট থেকে শুরু করে নিজামপুর, ভোরের হাট, পদুয়া, কাজীর হাট, সাহেরখালী, নয়দুয়ারিয়া ও বড়তাকিয়া পর্যন্ত সব এলাকার লোকজনে মুখরিত থাকতো এখানে। কিন্তু সময় ও চাহিদার প্রয়োজনে এখন বদলে গেছে অনেকটাই। বিক্রোতাদের ভিড় জমলেও ক্রেতার সংখ্যা নগণ্য। যাতায়াতের রাস্তা ও বাজারের ভিতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এত বড় একটা বাজারে নেই ঝাড়ুদার বা দারোয়ান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনুমানিক ২০০৩ সালের দিকে সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তবে বাজার ঘুরে কমিটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তবে ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন বলছেন কমিটি হয়েছে ২০০৮ সালে। তিনি জানান, রাস্তার যেটুকু অংশের কাজ হয়েছে এর যোগানের অধিকাংশই বাজারের তহবিল থেকে, তবে বাকি অংশের জন্য সরকারের কাছে আবেদন পৌঁছানো হয়েছে। বর্তমানে তা প্রক্রিয়াধীনও রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন খবরিকাকে জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক দেখাশোনার জন্য প্রতিবাজারে একটি নিয়ন্ত্রণ কমিটি থাকে। তবে কমিটি না থাকলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। যেহেতু বাজারের ভাল-মন্দ বুঝার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের সেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে কমিটির আয়োজন করা হয়। আর তারা ৮-১০ বছরেও কমিটি না করলে সেক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের কোন ভূমিকা থাকেনা।