শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মিরসরাইয়ে পরকিয়ারটানে ঘর ছেড়েছে ২ সন্তানের জননী

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে প্রবাসী স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রেমিকের হাতধরে পালিয়েছে ২ সন্তানের জননী নুরজাহান (৪৫)। সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ৪নং ধুম ইউনিয়নের দক্ষিন ধুম গ্রামের রাজা মিয়ার পুরাতন বাড়ীর মৃত নুরুল ইসলামের প্রবাসী ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে প্রায় ২০ বছর পূর্বে লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার জৈনেক নুরজাহানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে জন্মগ্রহন করে। বড় ছেলে ওমর ফারুক (১৭) চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এইচএসসিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ছোট মেয়ে উর্মি (১২), ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ছে। এদিকে বিয়ের পর জাহাঙ্গীর জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করেন, তার সুবাদে সম্প্রতি সময়ে জোরারগঞ্জ এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজে নিয়োজিত লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মোশারফের সাথে নুরজাহান পরকিয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যা এক সময় শারীরিক মেলামেশায় পরিনত হয়। এদিকে নুরজাহান তার ছোট মেয়েকে নিয়ে একা বাড়ীতে বসবাস করার সুবাদে প্রায় প্রতি রাতে মোশারফ নুরজাহানের সাথে মেলা মেশা করত। একপর্যায়ে বিষয়টি তার মেয়ে টের পেলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বলে উর্মি জানায়। সূত্রে আর জানা যায়, গত দু’মাস যাবৎ নুরজাহান জাহাঙ্গীরকে তালাক দিয়ে মোশারফকে বিয়ে করে চট্টগ্রাম শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে। আর এসময়ের মধ্যে নুরজাহান কৌশলে জাহাঙ্গীরের সংসারের সব মালামাল নিয়ে যায়। এদিকে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন জাহাঙ্গীর এসবের কিছুই জানেন না। জাহাঙ্গীর গত জুন মাসের ২২ তারিখে দেশে ফিরে আসার সময় তার স্ত্রী সন্তানরা রিসিভ করার জন্য ঢাকা এয়ারপোর্ট যায়। আসার সময় দু’টি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়। একটিতে জাহঙ্গীর আর মেয়ে উর্মি, অন্যটিতে (বিদেশ থেকে আনা মালভর্তি) ছেলে ফারুক আর নুরজাহান উঠে আসার পথে স্থানীয় বারইয়ারহাট এলাকায় জাহাঙ্গীরের গাড়ীটি বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দিয়ে তারা পরে আসছে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম চলে যায়। পরে জাহাঙ্গীর বাড়ী এলেও তার স্ত্রী ও ছেলে বাড়ী না আসায় জাহাঙ্গীরের সন্দেহ হয়। এক পর্র্যায়ে মেয়ে উর্মি বাবাকে তার মায়ের পরকিয়ার কথা জানিয়ে দেয়। বিষয়টি স্থানীয়দের কানে আসলে, গত মঙ্গলবার বিকেলে তারা প্রেমিক মোশারফকে আটক করে গ্রাম্য শালিশের আয়োজন করে। এসময় খবর পেয়ে নুরজাহান তার স্বামীকে আটককরে মারধর করছে মর্মে জোরারগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করলে থানার এসআই মাইন উদ্দিন, ঘটনাস্থল থেকে মোশারফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গতকাল বুধবার থানা কার্যালয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উভয়ে আপোষ মীমাংসা করে নেয়। নুরজাহান জাহাঙ্গীরের বাড়ী থেকে নেয়া সমস্ত মালামাল ফেরত দিয়ে তার নতুন স্বামীর সাথে ঘর করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর জাহাঙ্গীর তার মেয়ে উর্মিকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসে। এছাড়াও তাদের বড় ছেলে ওমর ফারুক সেচ্ছায় তার মায়ের সাথে থাকার সিদ্বান্ত নিয়ে মায়ের সাথে নতুন বাবার কাছে চলে যায়।