বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ভাষণ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার দিক নির্দেশনা

image_191409.sangsod

 

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, ভাষণে সরকারের নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের একটি দিক-নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
গত ২০ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের ডা. দীপু মনি তা সমর্থন করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ১৯তম দিনে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম সানজিদা খানম, সেলিনা জাহান রিটা, বেগম তারানা হালিম, বেগম ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, বেগম সাবিহা নাহার, বেগম কামরুন লায়লা ডলি, জাতীয় পার্টির এডভোকেট সালমা ইসলাম, মাহজাবিন মোরশেদ, নুরুল ইসলাম মিলন এবং জাসদের নাজমুল হক প্রধান আলোচনায় অংশ নেন।আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে।তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ এমন এক সময়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে, যখন দেশে আইনের শাসন বলে কিছু ছিল না। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ভূমিকার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বিদেশে এদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে।তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগে বিএনপি-জামায়াত আমলে দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। কলকারখানাসহ দেশের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তখন ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এই অবস্থা থেকে উত্তোরনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ফলে বর্তমানে দেশে ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন হচ্ছে।শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি জামায়াতের আমলে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ বিশ্ব মন্দার পরও বর্তমানে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪০ মার্কিন ডলার, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার। মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। রপ্তানী আয় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানীকারক দেশে পরিনত হয়েছে। উন্নয়নের দিকে ধাবিত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।
তিনি বলেন, দেশ যখন মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বেগম খালেদা জিয়া আইএস এর অর্থায়নে এদেশে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। তার গণতন্ত্র সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের গণতন্ত্র। আন্দোলনের নামে দেশে চলমান নাশকতায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার স্বামী জিয়াউর রহমানও স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিল। সে যদি স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্টপোষকতা না দিত, তাহলে এদেশে জঙ্গি উত্থান হতো না। মুক্তিযোদ্ধাদের ধ্বংস করাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তার স্ত্রীও ’৭১ ও ’৭৫-র খুনীদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন।
আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের নামধারী ১/১১ সরকারের সহযোগী একশ্রেণীর সুশীল সমাজ সংলাপের নামে অপরাধীদের রক্ষা করতে চাচ্ছে। লাশের উপর পা দিয়ে কোন হত্যাকারী, জঙ্গি সন্ত্রাসীদের সাথে সংলাপ হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের সাথে সংলাপ হয় না।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, লাশের উপর দিয়ে এরা ক্ষমতায় যেতে চায়। এই অপতৎপরতায় ইন্ধনদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, দেশে বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে অবরোধ-হরতালের নামে যা চালানো হচ্ছে তাকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলা যায় না। তারা পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যাসহ জঙ্গী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে তছনছ করে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। দেশ যখন এগিয়ে চলছে তখন সন্ত্রাস নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে আফগানিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে।
তারা বলেন, সন্ত্রাসী জঙ্গীদের সাথে কোন সংলাপ হতে পারে না। এটা করা হলে জঙ্গীবাদের সাথে আপোষ করা হবে। যে জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বিজয় দিবস পালন করছে, সে জাতির কখনো পরাজয় দিবস আসবে না।
তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন দেখলেন তার প্রতি দেশের জনগণের কোনো সমর্থন নেই, তখনই তিনি জঙ্গীবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার আর কোন জনসমর্থন নেই।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে সন্ত্রাস- জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সেখানে শেখ হাসিনার সরকার স্বার্থকভাবে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকার ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই সরকারের কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়েছে।