বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ভারতীয় না হলে আট বছর জেল হবে নূর হোসেনের

image_98853.nur hossain

আদালতে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত না করতে পারলে অনুপ্রবেশের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ আট বছরের জেল হতে পারে নূর হোসেনের। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে পুশব্যাক করা হবে বাংলাদেশে। আজ শনিবার গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বারাসত আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শান্তময় বসু।শান্তময় বসু বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী শনাক্তের বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ। প্রথমে নূর হোসেনকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। পাল্টা নূর হোসেন নিজেকে চেষ্টা করবে ভারতীয় প্রমাণ করার। সে ক্ষেত্রে তাকে পরিচয়পত্র হিসেবে দেখাতে হবে ভারতীয় পাসপোর্ট অথবা সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র। একই সঙ্গে পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করবে আদালতে। এরপর রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। এ প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ।
পুরো প্রক্রিয়ায় যদি নূর হোসেন নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ না করতে পারেন, তা হলে শেষ পর্যন্ত দোষী প্রমাণিত হলে তার সাজা হবে। সাজার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৮ বছর। পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশ থাকবে-জেল খাটার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে হবে।
জানা গেছে-এই প্রক্রিয়াটি আরো জটিল। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে নূর হোসেন বিষয়ে তথ্য যাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। বিষয়টি পরবর্তিতে যাচাই করবে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাস। তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে রিপোর্ট পাঠানো হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জ পুলিশের মাধ্যমে নূর হোসেন বিষয়ে তথ্য যাচাই শেষে ফাইল ফেরত যাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে ভারত সরকারের কাছে। শনাক্তকরণ নিশ্চিত হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে ফাইল আসবে কারা দপ্তরে। তারপর শুরু হবে পুশব্যাকপ্রক্রিয়া। এ ভাবে আরো ২-৩ বছর সময় লাগবে।
এ রকমই আইনি প্রক্রিয়ায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বছর ধরে মামলা চলছে সুব্রত বাইনের।
যদিও পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে-দুই দেশের সরকার উদ্যোগী হলে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে নূর হোসেনকে।