বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ব্যাপক মহড়ার প্রস্তুতি বিএনপির

pic-13_166851

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে আজ থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ ৩ ও ৫ জানুয়ারি জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও দলের নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে আজই শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

দলটির একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি তো রয়েছেই। অঙ্গসংগঠনগুলোকেও আদালত প্রাঙ্গণে লোক জমায়েত করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আদালত ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কড়া নজর রাখবে।

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে আজ রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জামিন বাতিল করে তাঁকে আজই কারাগারে নেওয়া হতে পারে বলে গতকাল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট অনেককেই বলতে শোনা গেছে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে সরকার খালেদা জিয়াকে আটক করতে পারে।

বিএনপির অনেকের মধ্যেও এমন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেন। তবে দুটি মামলায়ই খালেদা জিয়া জামিনে থাকায় এ আলোচনা খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি দুটি মামলায়ই উচ্চ আদালত ও জজ কোর্টের জামিনে আছেন। সুতরাং তাঁকে আটকে ফেলা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।

সানাউল্লাহ জানান, ‘দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বকশীবাজারের বিশেষ এজলাসে হাজির হবেন। আমরা দুটি মামলায়ই আইনি লড়াই করতে প্রস্তুত।’

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া উপলক্ষে বকশীবাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লোক জমায়েত করবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। এর জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর প্রস্তুতি সভা হয়েছে। ঢাকার নেতা-কর্মীদের আজ আদালতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আজ আদালতপাড়া ও আশপাশে লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটানোর। এ জন্য ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে পঞ্চাশ হাজার লোক আনা হচ্ছে। ওইসব জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ইতিমধ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সূত্র মতে আগামী ৩ ও ৫ জানুয়ারি পরপর দুটি জনসভার মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করতে চায় বিএনপি। এ জন্য দলটি বিভিন্ন পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরো জানুয়ারি মাস একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখতে চায় তারা। ওই দুই জনসভার ওপরই দলটির পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করছে। জনসভা করতে দেওয়া হলে ধাপে ধাপে তারা আন্দোলন চাঙা করবে; না দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর কর্মসূচি দেবে। সব মিলিয়ে দলটির মধ্যে এক ধরনের ‘রণপ্রস্তুতি’ চলছে।আবার সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতারা কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের কথা বলছেন। ফলে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজনীতি। এ অবস্থার মধ্যে খালেদা জিয়ার আজ মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা এ দুটি মামলা বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। দুই মামলারই বিচারের দায়িত্বে থাকা ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায়কে সম্প্রতি পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদারকে। আদালত পরিবর্তনের জন্য খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন বর্তমানে হাইকোর্টে রয়েছে।কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে : বকশীবাজারে অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে আদালতের চারপাশে অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।এ প্রসঙ্গে বংশাল থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার আজ আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা আছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সজাগ থাকবে। পাশাপাশি র‌্যাব ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে।