শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকেও জেলে নেওয়া হবে

pic-19_131392
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি হরতাল ডেকে নাশকতা করতে চায়; দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তাদের হরতালের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; খালেদা জিয়াকেও জেলে ঢোকানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত মাঠে নেমেছে বলেই বিএনপি মাঠে নেমেছে। সোমবার হরতাল দিয়েছে। তাদের মাঠে নামার সাহস ছিল না। হরতালের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা, জ্বালাও-পোড়াও বরদাশত করা হবে না। নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিকভাবে এ হরতাল মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মতো করেই দায়িত্ব পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গতকাল শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠক সূত্র আরো জানায়, বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক নেতা কথা বলেন। দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশকে এগিয়ে নিতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করেছি, আগামীতেও করব। তবু বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের টার্গেট ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। হাতে সময় খুব বেশি নেই। তবু আমার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ এটা করতে পারবে। শুধু তা-ই নয়, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা হবে।’
সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘জামায়াত বিএনপির আগে মাঠে নামার সাহস পেত না। এখন তারা নামছে, নামার সাহস পাচ্ছে। আবার বিএনপিও মাঠে নামছে। সাঈদীর সাজা কমায় এমনটা হচ্ছে।’
সারা দেশে সম্মেলন চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। কারণ সংগঠনই সব কিছু। সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনও এগিয়ে আসছে বলে তিনি জানান। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়া ও উৎসাহিত করাই তাদের কাজ। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করতে চায়। অনেক ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা উন্নত দেশের নির্বাচনেও পড়ে না।
বৈঠকে সাত সাংগঠনিক সম্পাদককে সমন্বয়ক করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের নিয়ে সাত বিভাগে সাতটি কমিটি করেন শেখ হাসিনা। এ কমিটির কাজ হবে সারা দেশ সফর করা ও জেলা সম্মেলন দ্রুত শেষ করা। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নেতাদের সব জেলা সম্মেলন দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যে এসব কমিটির নেতারা বৈঠক করে সফর শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনসহ উপদেষ্টা পরিষদ ও নির্বাহী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ নেতা-কর্মীদের সংগঠনের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্রলীগের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে মানুষ আমাদের বিপক্ষে যাবে না। আমাদের জন্য সমস্যা এখন ছাত্রলীগের বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড। এগুলো মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে।’
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দলের কয়েকজন নেতার সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের জটিলতার কারণেই সংগঠন দুর্বল হয়। দল সংকটে পড়ে। আমাদেরই আগে আত্মশুদ্ধি করতে হবে।’
সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতা এখন হতাশাগ্রস্ত। তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চান। তিনি বলেন, ‘রংপুরেই এখন অনেক নেতা রয়েছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চান। এ ব্যাপারে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আপনার একটি দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।’ খালিদ মাহমুদের বক্তব্য সমর্থন করেন হানিফ ও ড. আব্দুর রাজ্জাক। এ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না।’ এ সময় ড. রাজ্জাক পেশাজীবীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক জোরদার করতে হবে বলে পরামর্শ দেন। এ পরামর্শ প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও দেন।

ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আকরাম হোসেন বলেন, দেশে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো চলছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। তিনি অটিজম নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের কাজের প্রসঙ্গে বলেন, অটিজম নিয়ে কাজ করতে যদি কোনো তহবিল লাগে ব্যবসায়ীরা তা দিতে রাজি আছেন।