শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের কাজ করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

image_140832.hasi1
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তী ও মর্যাদা উজ্জ্বল করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়েছেন।
তিনি তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মতাদর্শগত মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে আরো অবদান রাখারও আহবান জানান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতালির মিলানে মিলানোফিরোরিন হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক গণসংবর্ধনা দেন। আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন। এখানে পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য বিভিন্নভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে।
মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের অসামান্য অবদান দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যখনই কোন সংকটে পড়েছে তখনই প্রবাসী বাংলাদেশিরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছে।
বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই অপশক্তি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাপক অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছে।
তিনি বলেন, তারা শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় নেতাকে হত্যা করেছে। তারা ক্ষমতার লোভে এবং চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।
গত ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রতিহত করতে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সারাদেশে পুলিশ, বিজিবি ও সেনা সদস্যসহ মানুষ খুন করেছে, রেলওয়ের ফিসপ্লেট উপড়ে ফেলেছে, বাস, ট্রেন, পবিত্র কোরআন ও মসজিদে আগুন দিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১’র পরাজিত শক্তি ৭৫’র পর জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিভিন্নভাবে পুরষ্কৃত এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে বাংলাদেশকে ‘হত্যাকারীদের দেশে’ পরিণত করেছিল।
সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে এরশাদ ও খালেদা জিয়া হত্যাকারীদের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা করেন এবং বিদেশি বিভিন্ন মিশনে তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে জাতিকে বিরাট কলঙ্কমুক্ত করেছে।
তিনি গত পাঁচ বছর আট মাসে তাঁর সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকার ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশের উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদ আহরণের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগ ইতালি শাখার সভাপতি ইদ্রিস ফরাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাস গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরিফ বক্তৃতা করেন।
ইতালি ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।