শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বিতর্কিত নির্বাচন জাতির জন্য অমঙ্গল

49256_f2

বিতর্কিত নির্বাচন জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, গণতন্ত্রকে নিয়ে মানুষের ভুল বোঝার কোন অবকাশ নেই। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দলবাজি ছেড়ে সবাইকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা  সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, জাতি হিসেবে মৌলিক কিছু বিষয় আমাদের রয়েছে। সেসব বিষয়ে আমরা সবাই একমত। কিন্তু দলীয় স্বার্থে অনেক সময় অনেকে ভিন্ন কথা বলছে। কিন্তু আমি বলবো- দলের ব্যানারে অবশ্যই আপনারা কথা বলবেন। কিন্তু দেশ ও জাতির মৌলিক স্বার্থে অবশ্যই ঐকমত্য থাকতে হবে। সংবিধানেও সেই ব্যবস্থা রয়েছে। এজন্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দলীয় ব্যানারে না গিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে  যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ড. কামাল বলেন, সংবিধান কোন দলের নয়। সংবিধানের মূল নীতি জনগণ ও দেশের স্বার্থে করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি দেশ শাসন করবে তাতে কোন বিতর্ক নেই। কিন্তু যে নির্বাচন বিতর্কিত সেই নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের শাসন নিয়ে বিতর্ক আসতেই পারে। আজকে এসব কারণেই জাতীয় ঐক্যের কথা বলতে হচ্ছে। ড. কামাল বলেন, দেশজুড়ে এখন বৈষম্য চলছে। রাজউক গ্রাম উজাড় করে উপরতলার লোকদের জন্য জায়গায় তৈরি করছে। সুন্দর সুন্দর নাম দিয়ে প্লট হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার ৫০ শতাংশ মানুষই বস্তিবাসী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় যখনই যে এসেছেন, শুধু ভোগই করেছেন। সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এমন নির্বাচন নির্ভেজাল গণতন্ত্র আনবে না। নির্দিষ্ট জেলা, অঞ্চল বা দলভিত্তিক মূল্যায়নে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ড. কামাল বলেন, কালো টাকার মালিকদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। তাদের অনেকেই দুই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জনগণ এই সরকারকে পছন্দ করছে না, কিন্তু তারপরও  কোন আন্দোলন হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের নিয়ে আন্দোলন করলে জনগণ আসবে না। আন্দোলনের পর যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কোন নিশ্চয়তা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান সরকার ৫ই জানুয়ারির ভুয়া, প্রহসনমূলক, অদ্ভুত নির্বাচন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বিদেশীদের এনে নকল  ক্রেস্ট দিয়েছে। সনদ নকল করছে, কিন্তু তারা আবার মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ধারণ করেন বলে দাবি করছেন। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী সায়মন কামালীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, পারভেজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।