সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন রাশেদ রউফ

6070f97eef8b70ababd89875597a9e07

শিশু সাহিত্যের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন কবি সাংবাদিক রাশেদ রউফ। গতকাল এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য এবার ৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এবার কবিতায় আবু হাসান শাহরিয়ার, কথাসাহিত্যে শাহাদুজ্জামান, প্রবন্ধ ও গবেষণায় মোরশেদ শফিউল হাসান, অনুবাদে ড.নিয়াজ জামান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে ডা. এম এ হাসান, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনী বিভাগে নূরজাহান বোস এবং শিশুসাহিত্যে রাশেদ রউফ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মানসম্মত লেখা পাওয়া না যাওয়ায় এ বছর নাটক ও বিজ্ঞান বিভাগে কেউ পুরস্কার পাননি।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেবেন। মনোনীতরা নগদ ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ পাবেন।

দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফের প্রথম বই বের হয় ১৯৯১ সালে। ‘আকাশের ঠিকানায় সূর্যের সীমানায়’ নামে প্রকাশিত এই বইটি কিশোর কাব্য। এরপর ২৭ বছরে রচনা করেছেন ৪৭টি গ্রন্থ। এর মধ্যে ৪৫টি বই শিশু ও কিশোরদের নিয়ে রচিত। সর্বশেষ চলতি বছর প্রকাশিত হয়েছে ‘রূপ ও রূপের আলো’ নামে একটি গ্রন্থ। নীরবেনিভৃতে শিশুদের জন্য লিখে গেছেন তিনি। দীর্ঘ পথ চলায় এর আগেও কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন অনেক বার। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কবি রাশেদ রউফ বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অসংখ্য কবি সাহিত্যিকের রচনা পড়ে ছোট বেলায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি। সেখান থেকেই ছন্দের সাথে সম্পর্ক, ভালো লাগা। বড় হবার পরে যখন লিখতে শুরু করলাম দেখলাম শিশুদের জন্য লেখার মানুষ খুব কম। তাদের জন্য কবিতা, ছড়া, সাহিত্য তেমন নেই। তখন থেকে শিশু কিশোরদের জন্য লিখতে শুরু করলাম।

রাশেদ রউফ বলেন, আমার শিশু সাহিত্যে বিশেষত কিশোর কবিতায় মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম, নিসর্গ ও প্রকৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নীরবেনিভৃতে চট্টগ্রামে থেকে নিরন্তর সাহিত্য চর্চা করেছি। ছড়াকবিতার বাইরে প্রচুর কিশোর গল্প, বড়দের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্যের ওপর গবেষণা এবং জীবনী নিয়ে কাজ করেছি। কাজের মূল্যায়ন হয়েছে সেজন্য আমি আনন্দিত।

তিনি বলেন, পুরস্কার অর্জন করবো বা কোন কিছু পাবো এমন কোন উদ্দেশ্য আমার ছিল না। তবে এই পুরস্কার পেয়ে আমি অভিভূত, আনন্দিত। এর জন্য বাংলা একাডেমি ও যারা আমাকে বিবেচনা করেছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কাজ করার সময় অগ্রজদের সব সময় অনুসরণ করেছি। তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। চট্টগ্রাম থেকে লেখালিখি করি বলে কখনও হতাশ হয়নি। জানতাম কাজ করলে স্বীকৃতি একটি পাবো।

সারা জীবন লিখে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি পুরস্কার আমাকে এগিয়ে যেতে আরো সাহস যোগাবে। এছাড়া শিশু সাহিত্য নিয়ে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য এই পুরস্কার প্রাপ্তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে ১৯৬৪ সালের ১ জানুয়ারি রাশেদ রউফের জন্ম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিভাগে বিএসসি (সম্মান), এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। তিনি শিল্পসাহিত্যইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম একাডেমিরও প্রতিষ্ঠাতা।

তার এ পর্যন্ত ৪৭টি বই বেরিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেআকাশের সীমানায় সূর্যের ঠিকানায় (১৯৯১), আগল ভাঙা পাগল হাওয়া (১৯৯৬), বিকেল মানে ছুটি (১৯৯৬), ধানের গানে প্রাণের বাঁশি (১৯৯৮), যাওয়ার পথে হাওয়ার রেলে (১৯৯৯), স্বাধীনতার প্রিয় কবিতা (২০০০), ছুটির মজা কেমন মজা (২০০০), আয়রে খোকন ঘরে আয় (২০০২), নির্বাচিত কিশোর কবিতা (২০০৪), ছবির মতো দেশ (২০০৮), আনন্দ সাম্পান (২০০৯), পরির নূপুর (২০১২), ভাষাআন্দোলন মুক্তিযুদ্ধস্বাধীনতা ও দেশের কবিতা (২০১৪), তোমার জন্যে সোনার বাংলা (২০১৬), ছন্দ পরিচয় (১৯৯৬), ছড়া জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া (১৯৯৯), ছড়াশিল্পী লুৎফর রহমান রিটন (২০০০), বাংলাদেশের ছড়া: রূপ ও রূপকার (২০০৭), রবীন্দ্রনাথ: ছোটোদের আপন (২০১২), অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ (২০১৫), আলোয় ভুবন ভরা (২০১৬), তোমার জন্য সকাল আমার তোমার জন্য রাত (১৯৯৭), এসো পঞ্চাশে এসো মন চাষে (২০১৩), সমকালীন ছড়া (১৯৯৭), অন্ত্যমিল সমগ্র:(২০১৬), কাকবন্ধু ও ভূতের গল্প (২০০৬), পরির ভুবন (২০০৯), পরি কি সত্যি সত্যি ঘরে এসেছিল (২০১৪), রূপ ও রূপের আলো (২০১৭)

তার সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ছড়া ও কবিতা (১৯৯৭), বাংলাদেশের ছড়া (২০০১), লেখক কোষ: চট্টগ্রাম (২০০২), শিল্পী কোষ: চট্টগ্রাম (২০০৩), এমআর আমিন স্মারকগ্রন্থ (২০০৪), মাহবুবুল হক সম্মাননা স্মারক (২০০৮), ‘ও আমার কিশোরবেলা’ (২০১৩), বাংলাদেশের কিশোরকবিতা: আলোর ঝলক (২০১৬)

এর আগে রাশেদ রউফ পেয়েছেন ছোটদের কাগজ শিশুসাহিত্য পুরস্কার, পালক অ্যাওয়ার্ড, কিডস শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অর্চি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, বাংলা সাহিত্য পদক, বোধন আবৃত্তি স্কুল সম্মাননা পদক, বাপী শাহরিয়ার স্মৃতি পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার (দুইবার), বাংলার মাটি বাংলার জল পদক, গ্রেটার চিটাগং রোটারি ক্লাব সম্মাননা, চট্টগ্রাম মিডিয়া ক্লাব ‘এন্টারটেইনার অ্যাওয়ার্ড’, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৬ প্রভৃতি।