বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বাংলাদেশের সব পোশাক কারখানাতেই নিরাপত্তার সমস্যা

image_139349.rana_plaza_site_624x351_bbc_nocredit

বাংলাদেশের ১১ শতাধিক পোশাক কারখানা পরিদর্শন শেষে এর প্রায় সবগুলোতেই নানা ধরনের সমস্যা দেখতে পেয়েছে পশ্চিমা পোশাক ব্রান্ডগুলোর জোট ‘একর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’।একর্ডের প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্রাড লোয়েন জানিয়েছেন, প্রায় সব কারখানাতেই তারা নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ছোট-খাট সমস্যা থেকে শুরু করে মারাত্মক ঝুঁকিও আছে। তিনি বলেন, একর্ডের টিম এখন বাংলাদেশের কারখানা মালিক, পোশাক ব্রান্ডগুলো এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মিলে এসব সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে।
আমস্টারডাম থেকে একর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোট এক হাজার ১০৬টি কারখানা তারা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ৪০০ কারখানার জন্য ইতিমধ্যে তারা একটি সংস্কার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে।এতে আরো বলা হয়, এসব কারখানা পরিদর্শনের সময় তারা প্রায় ৮০ হাজার সমস্যা বা ত্রুটি-বিচ্যূতি দেখতে পেয়েছে। এর মধ্যে কারখানা ভবনের ওপর ওজনের চাপ কমানোর মতো ব্যবস্থাগুলো ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
একর্ডের পরিদর্শকরা দেখতে পেয়েছেন, অনেক কারখানা ভবনে ‘অগ্নিনিরোধক দরোজা (ফায়ার ডোর) এবং স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (অটোমেটিক ফায়ার এলার্ম) নেই। আগুন লাগার পর যে রকম অগ্নি প্রতিরোধী নির্গমণ পথ থাকা দরকার সেই ব্যবস্থাও নেই। অনেক কারখানা ভবনের কাঠামো আরো শক্ত করার প্রয়োজন হবে।অন্তত ১৭ টি ভবনের কাঠামো প্রত্যাশিত নিরাপত্তা মানের নীচে রয়েছে। এসব ভবনকে অনুপযোগী ঘোষণা করে সেগুলো খালি করার সুপারিশ করেছে একর্ডের পরিদর্শক টিম। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট তারা সরকারের কাছেও জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য ইউরোপীয় পোশাক ব্রান্ডগুলো বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় রানা প্লাজা ট্র্র্যাজেডির পর।
রানা প্লাজা ধসে এগারোশোর বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছিল। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।