বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৭ মাঘ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

বঙ্গবন্ধুর পাশে লুটেরাদের ছবি দেখতে চান না সেতুমন্ত্রী

 

 

বঙ্গবন্ধুর পাশে টাউট-বাটপার, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও লুটেরাদের ছবি দেখে ব্যথিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে স্বাধীন বাংলার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। এখন রাজনীতিতে আদর্শ নেই অভিযোগ করে কাদের বলেন, আমি ব্যথিত হই বিভিন্ন রাস্তায় বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে চাঁদাবাজ, টাউট-বাটপার, ভূমিদস্যু ও লুটেরাদের ছবি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড দেখে। এসব চাঁদাবাজ-টাউট-বাটপারদের ছবি বঙ্গবন্ধুর পাশে দেখতে চাই না।নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে এক ধরনের মানুষরা এ অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই, নিবৃত করতে হবে। যেখানেই বঙ্গবন্ধুর পাশে চাঁদাবাজ, টাউট-বাটপার, ভূমিদস্যু ও লুটেরাদের ছবি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড দেখবেন সেগুলো ছিড়ে ফেলবেন। তাতেই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে। আর এ কাজ (নিবৃত) যারা করবেন, তারাই হবেন বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শের অনুসারী। তিনি বলেন, ভাষণ-বক্তৃতা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠিত করার দরকার নেই, তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েই আছেন। এই মাটি যতদিন থাকবে, বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করা যাবে না। বক্তৃতার চেয়ে বঙ্গবন্ধুকে আমরা কতটা অনুসরণ করি, এটাই মূল বিষয়। এখানকার কয়জনে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়েছি? বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী অনুসরণই রাজনীতির জন্য যথেষ্ট। তাহলেই রাজনীতি আদর্শের দিকে যাবে, মূল্যবোধের দিকে যাবে। কিন্তু আজকের রাজনীতিতে আদর্শ নেই।আক্ষেপ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের রাজনীতি এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ, অন্ধের মতো আক্রোশের। এখানে কর্মসম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে? ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা শ্রেণি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও জয়কে অপহরণ চেষ্টা করে কর্মসম্পর্কের পরিবেশ বিষাক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনেও হরতাল-অবরোধ ডেকেছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আইএসের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অ্যালায়েন্স গঠন করে দমন করছে ওয়াশিংটন। বাংলাদেশে আইএস স্টাইলে কর্মকাণ্ড করছে বিএনপি, তাদের সঙ্গে সংলাপ করে লাভ কি? সংলাপ করতে হলে সম্পূর্ণভাবে এই সন্ত্রাস-সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তারপর দেখা যাবে সংলাপ হবে কি না!খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, অযৌক্তিক কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতি নেওয়া যায় না। ভুল পথে ভালো ফল আসে না। তাদের আন্দোলন সরকার হটানোর জন্য নয়। তাদের আন্দোলন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। তারা আন্দোলনের নামে নাশকতা করছে। চিত্রনায়িকা দিলারা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দি, ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি ফয়েজউদ্দিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ প্রমুখ।