রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

প্রত্যাহার নিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে

44106_f6

 

জনরোষ থেকে বাঁচতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ নিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোট। অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা না হলে পূজা ও ঈদের পর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। গতকাল সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আলমগীর বলেন, জোটের বৈঠকে সারা দেশে গণসংযোগের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে জনমত গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত  হয়েছে। এছাড়া হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী যে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তার বক্তব্যে ২০-দলীয় জোট ঘৃণা জানিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এই অবৈধ সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। কারণ ওই বক্তব্যের পরও লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি তার কথায় অনড় আছেন। তিনি বলেন,  মঙ্গলবার আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অব্যাহতি দেয়ার একটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হলেও তার কোন ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, এই অব্যাহতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। প্রধানমন্ত্রী তাকে কিছুই বলেননি। আমরা মনে করি, একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে জনরোষ থেকে বাঁচতে এরকম প্রচারণা চালিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে। ফুঁসে ওঠা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন,  ঈদ ও পূজার কারণে এখনই আমরা কোন কর্মসূচি দিচ্ছি না। আমরা অবিলম্বে মন্ত্রিসভা ও সংসদ থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ পূর্বক গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওয়ায় আনতে হবে।  তা না হলে ঈদ ও পূজার পর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তবে যেসব দল ও সংগঠন কর্মসূচি দিচ্ছে, তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদওয়ান উল্লাহ শাহেদী, এডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ, জাগপার মহাসচিব খন্দাকার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।