বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

প্রচলিত আইনেই শাস্তি চায় বিএনপি

শুধু মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ নয়, প্রচলিত আইনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে শাস্তি দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করলে এ দেশের মানুষের ক্ষোভ যাবে না। জনগণ তার বিচার চায়। হজ ও তাবলিগ নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করে লতিফ সিদ্দিকী বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত দিয়েছেন। এর ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। লতিফ সিদ্দিকীর ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যের প্রতিবাদে গত বুধবার যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিক্ষোভে ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর শাস্তির দাবিতে সারা দেশ ফুঁসে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। যশোর, রাজশাহী, নাটোরের শান্তিপূর্ণ এসব কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। আমরা পুলিশের এহেন হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারকে সংলাপে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বিএনপি সংঘাত চায় না। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। এটাকে দুর্বলতা মনে করলে সরকার বড় ভুল করবে। আলোচনা-সংলাপে না এলে বিএনপির হাতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির  নেতা রুহুল কবির রিজভী, কাজী আসাদুজ্জামান, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, আসাদুল করীম শাহিন, শিরিন সুলতানা, অ্যাডভোকেট আবদুল সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যশোরে বিএনপির কর্মসূচি থেকে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক ও যুগ্ম-সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ আট নেতাকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যশোরে নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ নারকীয় হামলা চালিয়েছে। লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। যুবদল কর্মীকে পুলিশ বুকে গুলি করে আহত করেছে। মহিলা দলের কর্মীদের  বেধড়ক পিটিয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের স্ত্রী সরকারদলীয় সংসদ সদস্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সেজন্য তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার মতো আচরণ করেন না। ক্ষমতার দাপটে একজন দলীয় ক্যাডারের মতো তিনি আচরণ করেন। পুলিশ সুপারকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং যশোর, নাটোর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।