মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পদ্মা দুর্নীতির আসামিদের অব্যাহতি

39780_f7

পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা থেকে সাত আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি)দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার যথার্থতা না থাকা, তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য, সাক্ষী না পাওয়ায় এ মামলাটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নথিভুক্ত করেছে কমিশন। তবে কানাডা থেকে লাভালিন কর্মকর্তা রমেশের ডায়েরি অথবা কানাডা থেকে মামলা প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত কিংবা নতুন করে মামলা দায়ের করা হবে বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলায় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেইন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এছাড়া মামলার এজাহারে সন্দেহভাজনের তালিকায় ছিলেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। সূত্র জানায়, লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহের ডায়েরি ঘিরেই পদ্মা সেতু বিষয়ে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। যেখানে ঘুষ দেয়ার পার্সেন্টেস লেখা ছিল। রমেশের ডায়েরির অনুলিপি ও বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করতে না পারলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আর কানাডার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হলে তা পাওয়া সম্ভব নয়। কানাডার আইনি জটিলতার কারণেই দুদকের প্রতিনিধি দুই বার ওই দেশে গিয়েও কোন আলামত সংগ্রহ কিংবা তথ্য-উপাত্ত আনতে পারেনি। এমনকি বিদেশী দুই আসামিদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাননি দুদক প্রতিনিধিরা। এ কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময়ের তদন্তে মামলাটিকে এগিয়ে নিতে পারেনি দুদক। অবশেষে গত রোববার পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, প্রাথমিক সত্যতা আর চূড়ান্ত সত্যতা এক নয়। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলার প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তি ছিল পত্রিকার তথ্য ও বিশ্বব্যাংকের আশ্বাস। বিশ্বব্যাংকের আশ্বাসের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হলেও মামলা প্রমাণের জন্য দাতা সংস্থা ও কানাডা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে হলো। পদ্মা সেতু মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ দেবে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার আশায় আমরা এজাহার করেছি। তদন্তের স্বার্থে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।