শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পদত্যাগ না করলে গিনেস বুকে ওঠার মতো গণঅভ্যুত্থান

2_82468
আগামী ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচন শেষ হলেই নতুন নির্বাচনের দাবিতে জোরালোভাবে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এমন ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তাই আন্দোলন আমাদের করতেই হবে। সময়কাল নির্ধারণ করে আন্দোলন হবে না। আন্দোলন চলছে, চলবে।
২৬ মার্চ লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, শত কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় সঙ্গীত গাইলে লাভ হবে না। টাকার খরচ করে বাসভর্তি মানুষ নিয়ে এসে এই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এভাবে গিনেস বুকে নাম উঠানো যায় না। আমাদের আন্দোলনে কোটি টাকা দিয়ে মানুষ আনতে হবে না। জনগণের ওই গণঅভ্যুত্থান গিনেস বুকে এমনিতেই স্থান পাবে। তাই সরকারকে বলব, বহুত হয়েছে, জনগণের অর্থ অপচয় করে এভাবে জনপ্রতিনিধিত্বহীন সংসদ চালানোর আর প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছেলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিকালে কর্ম-অধিবেশন বসে। আজ হবে বিএফইউজের নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুটি প্যানেল যথাক্রমে ‘শওকত মাহমুদ-এমএ আজিজ’ এবং ‘গোলাম মহিউদ্দিন খান-এলাহী নেওয়াজ খান সাজু’ পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
৫৪ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইন-শৃংখলা, গণমাধ্যমের অবস্থা, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, দশম সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ, চলমান আন্দোলন ও এর ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
দশম সংসদকে অবৈধ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই সংসদ জনপ্রতিনিধির সংসদ নয়। সংসদে একটি বিরোধী দল আছে, এটা সরকারের গৃহপালিত ও অনুগত। সরকার যা আদেশ করছে, তা তাদের মানতে হচ্ছে। মানতে বাধ্য। উপজেলা নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে, মাঠপর্যায়ের জনগণের কাছে এই তথাকথিত বিরোধী দলের কী অবস্থা। বিরোধী দল নেতা পরিচয়দানকারী নেতা বলেছেন, চাপের মুখে তিনি নির্বাচনে গেছেন। এখন তিনি বলছেন, রাজনীতি করবেন না, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। খালেদা জিয়া বলেন, চাপ তো আমাদের ওপরও ছিল। কিন্তু আমরা জনগণের কথা চিন্তা করেছি। তার মানে আপনারা এমন কোনো অপকর্ম করেছেন, যে কারণে চাপ উপেক্ষা করা আপনাদের কাছে সম্ভব ছিল না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের চাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সুতরাং সম্মান ও চামড়া বাঁচাতে চাইলে অবিলম্বে সংসদ থেকে পদত্যাগ করুন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা মুখে মুখে কেবল মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধে তারা যায়নি, যুদ্ধেও অংশ নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের দল দাবি করলেও তারা একাত্তরে রণাঙ্গনে ছিল না, সীমান্ত পাড়ি দেয়া শরণার্থী মুক্তিযোদ্ধা ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু রাজাকার রাজাকার বলে। অথচ তাদের নিজেদের দলে কত রাজাকার আছে, তা দেখে না। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কোথায় ছিলেন? তিনি পাকিস্তানি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারপ্রধান এমন একজনকে বিশেষ উপদেষ্টা বানিয়েছেন যিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানে থেকে এসে দেশে ছুটি কাটিয়ে আবার সেখানে ফিরে গেছেন। এগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নমুনা।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে শিক্ষাবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে প্রকৃত ইতিহাসকে ঢেকে রাখা যাবে না। এটা বেশিদিন চলবে না।
উপজেলা নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতাসীনদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার নানা ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ও চলমান উপজেলা নির্বাচনই প্রমাণ করে দিয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটা এখন কেবল গোটা বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিদেশীরাও মনে করে। সেজন্য বিদেশীরা বলেছে, সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা দেরি করলে চলবে না। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন সেই ফলাফল মেনে নেবেন বলেও ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না- ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বাসে গানপাউডার মেরে মানুষ হত্যা, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে মারার মতো আন্দোলন বিএনপি করতে জানে না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করি। ৫ জানুয়ারি ভোট বর্জনের ওই আন্দোলনে সারা দেশে আন্দোলন হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। তিন মাস সারা দেশ এই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। যখন আমরা টানা কর্মসূচি বন্ধ করলাম, তখন সরকার যৌথ বাহিনী দিয়ে সারা দেশে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা করেছে। এখনও এই গুম-হত্যা-গণহত্যা চলছে। সরকারকে বলব, এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন। নইলে এর পরিণতি শুভ হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন খালেদা জিয়া।
আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভিসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের টার্গেট এখন সাংবাদিকরাও। তাদের আমলে এ পর্যন্ত ২৩ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছে। বিভিন্নভাবে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবানও জানান তিনি।
আগামীতে ক্ষমতায় এলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তখন তারা নতুন পত্রিকা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। আগে কিছু না শিখলেও এবার শিখেছি। সাংবাদিকরা যাতে বেকার না থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আজ সরকার আইনের শাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমিও এর সাক্ষী। নিজে তিন ঘণ্টা আদালতে বসেছিলাম। আমাকে কোনো কিছুই জিজ্ঞাসা করল না। হঠাৎ করেই আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে চার্জ গঠন করা হল। এটা অন্যায়, এটা মানি না। বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থাকায় আদালতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় ও সুবিচার পাচ্ছে না। আমরা সুবিচার ও ন্যায় চাই।সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত হবেন না। পেশাদার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। নিজেরা সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে অপরাধী হবেন না। বিনা টেন্ডারে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের কর্মকাণ্ডের জন্য আইন করে দুর্নীতিকে বৈধ্যতা দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যতই আইন করা হোক না কেন, বিনা টেন্ডারে ওই সব প্রকল্প স্থাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। অন্যখান থেকে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের জনগণের কর্মসংস্থান নেই। মানুষ চাকরি পাচ্ছে না। দেশের মানুষজনকে বেকার রেখে বিদেশীদের কর্মসংস্থান করছে সরকার। বিশেষ করে একটি বিশেষ দেশে মানুষজন এদেশে কাজ পাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে, তাদের ওয়ার্ক পারমিট নেই, তারপরও তারা এখানে কাজ করে যাচ্ছেন।পদ্মা সেতু, পুঁজিবাজার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিসমিল্লাহ, ডেসটিনি, হলমার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ লুট করে ক্ষমতাসীনরা বিদেশে পাচার করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানিরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে তাদের সম্পত্তি দখল করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন। এ দেশ থেকে হিন্দুরা চলে গেলে তাদেরও সব কিছু দখল করেছে তারা। কেবল দখল নয়, আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। খোন্দকার মোশতাক, এরশাদ ও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনদের তারাই ক্ষমতায় বসিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রায় সব উপদেষ্টাই দুর্নীতিবাজ এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, দু-একজন ছাড়া সব উপদেষ্টাই দুর্নীতিবাজ। কোথায় কোন প্রকল্পে টাকা বানানো যাবে, সেই উপদেশই দেন ওই উপদেষ্টারা। ব্যাংকগুলোর অবস্থা দেখলে তা বোঝা যায়। ওই সব উপদেষ্টাই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এখন তারা রাস্তাঘাটে টোল বসানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারকে বলব, দুর্নীতিবাজ উপদেষ্টাদের উপদেশ শোনা বন্ধ করুন।খালেদা জিয়া বলেন, এই উপদেষ্টারা একদিন বলেছিল, ট্রানজিটের ফি নিলে বেয়াদবি হবে। আজ জনগণের ওপর ফি ধার্য করা সরকারের কি আদবি হবে? যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, সেজন্য দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তিস্তা পানি বণ্টন, বিভিন্ন নদ-নদীর ওপর বাঁধ বসিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ ও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনাও করেন খালেদা জিয়া।উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এই কমিশন সুষ্ঠুভাবে করতে পারেনি। সরকারি দলের লোকজন উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তারা নিতে পারেনি। তাই তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।বিএফইউজের সভাপতি গাজী রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, আঞ্চলিক ইউনিয়নের মধ্যে চট্টগ্রামের শামসুল হক হায়দারী, খুলনার মোঃ আনিসুজ্জামান, বগুড়ার সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, রাজশাহীর সরদার আবদুর রহমান, কুমিল্লার শাহ আলম শফি, যশোরের মহিদুল ইসলাম মন্টু, কক্সাবাজারের আতাহার ইকবাল, দিনাজপুরের জিএম হিরু, কুষ্টিয়ার নজরুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ঢাকার জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চট্টগ্রামের মোঃ শাহ নেওয়াজ, খুলনার হাসান আহমেদ মোল্লা, বগুড়ার মমিনুর রশীদ সাইন, রাজশাহীর সরদার এম আনিসুর রহমান, যশোরের মুরশিদুল আজিম হীরু, কক্সবাজারের জিএম আশেক উল্লাহ, কুমিল্লার রমিজ খান, দিনাজপুরের মাহফুজুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে আমান উল্লাহ কবির, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মনিরুল আলম, এমএ আজিজ, ইস্কান্দর আলী চৌধুরী, গোলাম মহিউদ্দিন খান, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, মাহমুদ শফিক, আবদুস শহীদ, আবু সালেহ, বাকের হোসাইন, আমিনুল ইসলাম কাগজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ছাড়াও সাংবাদিক ইউনিয়নের এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সানাউল্লাহ মিয়া, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার প্রমুখ ছিলেন।
উৎস- যুগান্তর
আগামী ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচন শেষ হলেই নতুন নির্বাচনের দাবিতে জোরালোভাবে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এমন ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তাই আন্দোলন আমাদের করতেই হবে। সময়কাল নির্ধারণ করে আন্দোলন হবে না। আন্দোলন চলছে, চলবে।
২৬ মার্চ লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, শত কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় সঙ্গীত গাইলে লাভ হবে না। টাকার খরচ করে বাসভর্তি মানুষ নিয়ে এসে এই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এভাবে গিনেস বুকে নাম উঠানো যায় না। আমাদের আন্দোলনে কোটি টাকা দিয়ে মানুষ আনতে হবে না। জনগণের ওই গণঅভ্যুত্থান গিনেস বুকে এমনিতেই স্থান পাবে। তাই সরকারকে বলব, বহুত হয়েছে, জনগণের অর্থ অপচয় করে এভাবে জনপ্রতিনিধিত্বহীন সংসদ চালানোর আর প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছেলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিকালে কর্ম-অধিবেশন বসে। আজ হবে বিএফইউজের নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুটি প্যানেল যথাক্রমে ‘শওকত মাহমুদ-এমএ আজিজ’ এবং ‘গোলাম মহিউদ্দিন খান-এলাহী নেওয়াজ খান সাজু’ পরিষদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
৫৪ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইন-শৃংখলা, গণমাধ্যমের অবস্থা, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, দশম সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ, চলমান আন্দোলন ও এর ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
দশম সংসদকে অবৈধ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই সংসদ জনপ্রতিনিধির সংসদ নয়। সংসদে একটি বিরোধী দল আছে, এটা সরকারের গৃহপালিত ও অনুগত। সরকার যা আদেশ করছে, তা তাদের মানতে হচ্ছে। মানতে বাধ্য। উপজেলা নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে, মাঠপর্যায়ের জনগণের কাছে এই তথাকথিত বিরোধী দলের কী অবস্থা। বিরোধী দল নেতা পরিচয়দানকারী নেতা বলেছেন, চাপের মুখে তিনি নির্বাচনে গেছেন। এখন তিনি বলছেন, রাজনীতি করবেন না, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। খালেদা জিয়া বলেন, চাপ তো আমাদের ওপরও ছিল। কিন্তু আমরা জনগণের কথা চিন্তা করেছি। তার মানে আপনারা এমন কোনো অপকর্ম করেছেন, যে কারণে চাপ উপেক্ষা করা আপনাদের কাছে সম্ভব ছিল না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের চাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সুতরাং সম্মান ও চামড়া বাঁচাতে চাইলে অবিলম্বে সংসদ থেকে পদত্যাগ করুন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা মুখে মুখে কেবল মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধে তারা যায়নি, যুদ্ধেও অংশ নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের দল দাবি করলেও তারা একাত্তরে রণাঙ্গনে ছিল না, সীমান্ত পাড়ি দেয়া শরণার্থী মুক্তিযোদ্ধা ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু রাজাকার রাজাকার বলে। অথচ তাদের নিজেদের দলে কত রাজাকার আছে, তা দেখে না। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কোথায় ছিলেন? তিনি পাকিস্তানি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারপ্রধান এমন একজনকে বিশেষ উপদেষ্টা বানিয়েছেন যিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানে থেকে এসে দেশে ছুটি কাটিয়ে আবার সেখানে ফিরে গেছেন। এগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নমুনা।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে শিক্ষাবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে প্রকৃত ইতিহাসকে ঢেকে রাখা যাবে না। এটা বেশিদিন চলবে না।
উপজেলা নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতাসীনদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার নানা ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ও চলমান উপজেলা নির্বাচনই প্রমাণ করে দিয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটা এখন কেবল গোটা বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিদেশীরাও মনে করে। সেজন্য বিদেশীরা বলেছে, সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা দেরি করলে চলবে না। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন সেই ফলাফল মেনে নেবেন বলেও ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না- ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বাসে গানপাউডার মেরে মানুষ হত্যা, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে মারার মতো আন্দোলন বিএনপি করতে জানে না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করি। ৫ জানুয়ারি ভোট বর্জনের ওই আন্দোলনে সারা দেশে আন্দোলন হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। তিন মাস সারা দেশ এই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। যখন আমরা টানা কর্মসূচি বন্ধ করলাম, তখন সরকার যৌথ বাহিনী দিয়ে সারা দেশে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা করেছে। এখনও এই গুম-হত্যা-গণহত্যা চলছে। সরকারকে বলব, এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন। নইলে এর পরিণতি শুভ হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন খালেদা জিয়া।
আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভিসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের টার্গেট এখন সাংবাদিকরাও। তাদের আমলে এ পর্যন্ত ২৩ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছে। বিভিন্নভাবে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবানও জানান তিনি।
আগামীতে ক্ষমতায় এলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তখন তারা নতুন পত্রিকা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। আগে কিছু না শিখলেও এবার শিখেছি। সাংবাদিকরা যাতে বেকার না থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আজ সরকার আইনের শাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমিও এর সাক্ষী। নিজে তিন ঘণ্টা আদালতে বসেছিলাম। আমাকে কোনো কিছুই জিজ্ঞাসা করল না। হঠাৎ করেই আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে চার্জ গঠন করা হল। এটা অন্যায়, এটা মানি না। বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থাকায় আদালতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় ও সুবিচার পাচ্ছে না। আমরা সুবিচার ও ন্যায় চাই।
সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত হবেন না। পেশাদার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। নিজেরা সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে অপরাধী হবেন না। বিনা টেন্ডারে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের কর্মকাণ্ডের জন্য আইন করে দুর্নীতিকে বৈধ্যতা দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যতই আইন করা হোক না কেন, বিনা টেন্ডারে ওই সব প্রকল্প স্থাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। অন্যখান থেকে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের জনগণের কর্মসংস্থান নেই। মানুষ চাকরি পাচ্ছে না। দেশের মানুষজনকে বেকার রেখে বিদেশীদের কর্মসংস্থান করছে সরকার। বিশেষ করে একটি বিশেষ দেশে মানুষজন এদেশে কাজ পাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে, তাদের ওয়ার্ক পারমিট নেই, তারপরও তারা এখানে কাজ করে যাচ্ছেন।
পদ্মা সেতু, পুঁজিবাজার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিসমিল্লাহ, ডেসটিনি, হলমার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ লুট করে ক্ষমতাসীনরা বিদেশে পাচার করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানিরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে তাদের সম্পত্তি দখল করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন। এ দেশ থেকে হিন্দুরা চলে গেলে তাদেরও সব কিছু দখল করেছে তারা। কেবল দখল নয়, আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। খোন্দকার মোশতাক, এরশাদ ও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনদের তারাই ক্ষমতায় বসিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রায় সব উপদেষ্টাই দুর্নীতিবাজ এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, দু-একজন ছাড়া সব উপদেষ্টাই দুর্নীতিবাজ। কোথায় কোন প্রকল্পে টাকা বানানো যাবে, সেই উপদেশই দেন ওই উপদেষ্টারা। ব্যাংকগুলোর অবস্থা দেখলে তা বোঝা যায়। ওই সব উপদেষ্টাই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এখন তারা রাস্তাঘাটে টোল বসানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারকে বলব, দুর্নীতিবাজ উপদেষ্টাদের উপদেশ শোনা বন্ধ করুন।
খালেদা জিয়া বলেন, এই উপদেষ্টারা একদিন বলেছিল, ট্রানজিটের ফি নিলে বেয়াদবি হবে। আজ জনগণের ওপর ফি ধার্য করা সরকারের কি আদবি হবে? যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, সেজন্য দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তিস্তা পানি বণ্টন, বিভিন্ন নদ-নদীর ওপর বাঁধ বসিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ ও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনাও করেন খালেদা জিয়া।
উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এই কমিশন সুষ্ঠুভাবে করতে পারেনি। সরকারি দলের লোকজন উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তারা নিতে পারেনি। তাই তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
বিএফইউজের সভাপতি গাজী রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, আঞ্চলিক ইউনিয়নের মধ্যে চট্টগ্রামের শামসুল হক হায়দারী, খুলনার মোঃ আনিসুজ্জামান, বগুড়ার সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, রাজশাহীর সরদার আবদুর রহমান, কুমিল্লার শাহ আলম শফি, যশোরের মহিদুল ইসলাম মন্টু, কক্সাবাজারের আতাহার ইকবাল, দিনাজপুরের জিএম হিরু, কুষ্টিয়ার নজরুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ঢাকার জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চট্টগ্রামের মোঃ শাহ নেওয়াজ, খুলনার হাসান আহমেদ মোল্লা, বগুড়ার মমিনুর রশীদ সাইন, রাজশাহীর সরদার এম আনিসুর রহমান, যশোরের মুরশিদুল আজিম হীরু, কক্সবাজারের জিএম আশেক উল্লাহ, কুমিল্লার রমিজ খান, দিনাজপুরের মাহফুজুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে আমান উল্লাহ কবির, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মনিরুল আলম, এমএ আজিজ, ইস্কান্দর আলী চৌধুরী, গোলাম মহিউদ্দিন খান, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, মাহমুদ শফিক, আবদুস শহীদ, আবু সালেহ, বাকের হোসাইন, আমিনুল ইসলাম কাগজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ছাড়াও সাংবাদিক ইউনিয়নের এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সানাউল্লাহ মিয়া, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার প্রমুখ ছিলেন। – See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/03/30/82468#sthash.WXRXG4DI.dpuf