বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

নূর হোসেন চলতেন ডিসি-এসপির সঙ্গে

5_4775

নারায়ণগঞ্জে অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম অধিপতি নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা কীভাবে পেলেন ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মনোজকান্তি বড়াল ও পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ নাজমুল আলম দায়িত্বে থাকাকালে পুলিশের কোন প্রতিবেদনবলে এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, এ প্রশ্ন এখন সবার। অভিযোগ উঠেছে, সখ্য থাকার কারণেই নূর হোসেন সহজে অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়ে যান। অনেক মামলার আসামি হলেও তিনি চলাফেরা করতেন ডিসি ও এসপির সঙ্গে। সে কারণে তার সম্পর্কে ভালো প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মাত্র এক বছরের মধ্যে পেয়ে যান পিস্তল ও শটগানসহ ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স। অবাক করা বিষয়, নূর হোসেনের সহযোগী এমন অনেকে অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন, যারা কেউ ছিলেন পেশায় ট্রাকচালক বা হেলপার। নারায়ণগঞ্জের এরশাদ শিকদার খ্যাত নূর হোসেনের সঙ্গে মনোজকান্তি বড়াল ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আবদুল মতিনের একটি ছবি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, তার সঙ্গে যে ডিসি ও পুলিশের সম্পর্ক গাঢ় ছিল, এটি তারই প্রমাণ। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ডিসি, এসপি ও ওসি নূর হোসেনের কোনো অনুষ্ঠান বাদ দিতেন না। সূত্র জানায়, ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যেই এক বছরে নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ২ মে পর্যন্ত ডিসির দায়িত্বে ছিলেন মনোজকান্তি বড়াল। ২০১১ সালের ১০ মে থেকে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসপির দায়িত্বে ছিলেন শেখ নাজমুল আলম। এ দুজনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১১টি লাইসন্স দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ছোট পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স দেয় সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কেউ শটগান বা টুটু বোরের বন্দুকের আবেদন করলে, আবেদনকারী যে থানা এলাকায় বসবাস করেন, সেই ওসিকে প্রতিবেদন দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আছে কি না কিংবা ওই ব্যক্তির নিরাপত্তায় অস্ত্র প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখবে। আর এসপির মাধ্যমে প্রতিবেদন দেওয়া হয় ডিসির কাছে। কিন্তু নূর হোসেনের আমলনামা ঘাঁটলে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ২৩টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ২০০১ সালের পর এতগুলো মামলা নিয়েই বাহিনীসহ ভারতে পালিয়ে যান। একটি মামলার রায়ে অনুপস্থিত নূর হোসেনকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় সে সময়। ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি রাখে। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১০ সালে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়- ‘সশস্ত্র অপরাধ, হত্যা ও অঙ্গহানিসহ বিভিন্ন অপরাধ রয়েছে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে’। জানতে চাইলে নতুন নিযুক্ত ডিসি আনিসুর রহমান মিয়া বলেন, ‘ছোট পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। শটগান বা বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা পুলিশের খাতায় তিনি সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসের অপরাধ আছে কি না তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে পুলিশ ডিসির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তা ছাড়া আবেদনকারীকে সম্ভবত বছরে দুই লাখ টাকা কর দেওয়া ব্যক্তি হতে হবে।