বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

নির্ধারিত দিনেই ঢাকা আসছেন মমতা

64139_b4

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাচ্ছেন। তার ঢাকা সফর বাতিলের যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা ঠিক নয় বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। মমতাও সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, তিনি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে যাচ্ছেন সাংস্কৃতিক ও শিল্পজগতের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়াও মমতার সফরসঙ্গী হচ্ছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পঞ্চায়েতমন্ত্রী  সুব্রত মুখোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য অভিনেতা দেব ও অভিনেত্রী মুনমুন সেন। সাংস্কৃতিক জগতের যারা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- পরিচালক গৌতম ঘোষ, গায়ক কবীর সুমন, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক নচিকেতা, ইন্দ্রনীল সেন, অভিনেতা অরিন্দম শীল প্রমুখ। অভিনেতা প্রসেনজিতেরও মমতার সঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য জগৎ থেকে যারা মমতার সঙ্গে ঢাকা যাচ্ছেন তাদের অন্যতম হলেন হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জয় বুধিয়া, জেপি চৌধুরী প্রমুখ। মমতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার বিমানে ঢাকা পৌঁছাবেন। তবে তার কর্মসূচি শুরু হবে শুক্রবার সকাল থেকে। এদিন রাত ঠিক ১২টায় শহীদ মিনারে মমতা শ্রদ্ধা জানাবেন বাংলা ভাষার শহীদদের উদ্দেশ্যে। মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার সারাদিনই ব্যস্ত থাকবেন নানা কর্মসূচি নিয়ে। তিনি নজরুল ইনস্টিটিউট ও বঙ্গবন্ধুর স্মারক পরিদর্শন করতে পারেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তার দীর্ঘ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনার জন্য মমতা নিয়ে যাবেন বেশকিছু উপহারও। হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় তিস্তার পানি বণ্টন ও স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে মমতা তার মতামত স্পষ্ট করে হাসিনাকে জানাবেন বলে জানা গেছে। স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গী না হওয়ার কারণও তিনি ব্যাখ্যা করবেন বলে মমতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিস্তার পানি বণ্টন প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে কিভাবে পানি বণ্টন করা যায় তা নিয়ে তিনি আলোচনা করতে পারেন। সীমান্তের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও তাদের আলোচনায় উঠে আসতে পারে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি এবং বাংলাদেশের শাড়ি ও কাঁচা শাকসবজি পশ্চিমবঙ্গের বাজারে যাতে নিয়মিত পাওয়া যায় সে ব্যাপারেও মমতা আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আলোচনায় সুন্দরবন উন্নয়নে যৌথ প্রয়াস এবং জলপথে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বৃদ্ধির বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দেবেন বলে জানা গেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি চেয়ার করার যে প্রস্তাব রয়েছে সেটি উদ্বোধন করার জন্য শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ইন্দো-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ও ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মমতা তার সঙ্গী শিল্প প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে মমতা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশের শিল্পপতিদের আহ্বান জানাবেন। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি ধরনের সুবিধা দেবে তাও তিনি জানাবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল কলকাতায় দেখানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়েও মমতা তার মত জানাতে পারেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে যৌথ প্রযোজনার পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে কলকাতায় এসে কাজ করার আবেদন জানাতে পারেন তিনি। শনিবার তিনি কলকাতায় ফিরে আসবেন। তবে মনে করা হচ্ছে, মমতা বাংলাদেশ সফরে উল্লেখযোগ্য কোন ঘোষণা দিতে পারেন। এদিকে,  তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য আহমেদ হাসান ইমরানের মমতার সফরসঙ্গী হওয়ায় দিল্লি ও ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রক বিব্রত বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা বানানো বলে জানিয়ে ইমরান এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মমতার সফরসঙ্গীর তালিকায় কখনোই তার নাম ছিল না। বিতর্ক তৈরির জন্যই এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমরান ফের জানান যে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতের কোন সংযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি তার শুভেচ্ছা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি শ্রদ্ধা করেন। ইমরান দুঃখ করে বলেন, ৩৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি। কখনই আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ কেউ করেনি। কিন্তুু ২০১৪ সালের জুনে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচার শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুকে মমতার বাংলাদেশ সফরের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মমতাকে কোনভাবেই ঢাকার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়া উচিত নয়। উনি জামায়াতের জঙ্গিদের সমর্থক। সেই সঙ্গে মমতার সফরসঙ্গী কবীর সুমনেরও সমালোচনা করে তসলিমা লিখেছেন, উনি একজন সুবিধাবাদী ও মৌলবাদী।