শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দেশ এখন গুম অপহরণের চারণভূমি

khaleda-glass_316082

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ কঠিন হুমকির সম্মুখীন। বিশেষ করে ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বর্তমান অগণতান্ত্রিক-কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে ব্যাপকভাবে গুমের শিকার হয়েছেন। দেশ এখন গুম-অপহরণের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। রোববার বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হবে।বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ নির্বাচনের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমন করতে গিয়ে এ সরকারের আমলে শুধু আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক সংসদ সদ্যস্য, পৌর মেয়র, অসংখ্য ছাত্র-যুবকর্মী গুম-অপহরণের শিকার হয়েছেন। দেশে গুম-অপহরণ বন্ধে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও সব নাগরিকের নিরাপত্তার দাবি সরকার উপেক্ষা করে চলেছে।তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ২০০২-২০০৬ থেকে কাজ করে গুমবিরোধী যে আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করেছে (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনেস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) তাতে ৪৩টি দেশ সনদটি গ্রহণ করে এবং ৯৩টি দেশ অনুস্বাক্ষর করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গুম হতে সবার সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এই সনদটি গ্রহণও করেনি। এমনকি অনুস্বাক্ষর না করায় দেশ এখন গুম-অপহরণের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে, আইনকানুন-প্রশাসন এখন আর জবাবদিহির মধ্যে না থাকায় গুমের শিকার মানুষজনের পরিবারবর্গ আজ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।গুম-অপহরণ বন্ধে জাতিসংঘের সনদটি অনুস্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান খালেদা জিয়া। নাৎসি জার্মানি, মধ্য ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে স্বৈরশাসকরা এক সময় যেভাবে গুম ও গুপ্তহত্যার হোতা হিসেবে আবির্ভূত হতেন- তাদের অনুসারীদের মতো আচরণ না করার জন্যও সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ২০০২ (রোম স্ট্যাটিউট) এর অধীনেও অপরাধ। কোনো দেশে যদি এই রোম স্ট্যাটিউটের অধীন অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে রোমে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন।খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোরীয় রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউ ইয়াং। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন লি ইউ ইয়াং। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। ঘণ্টাব্যাপী তাদের মধ্যে দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা হয়। এছাড়া ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতা করায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার এ রাষ্ট্রদূত। জবাবে খালেদা জিয়াও তাকে ধন্যবাদ জানান।