সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দেশে সুশাসন নেই

50021_b1

চট্টগ্রামে আয়োজিত সমাবেশ থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জনগণ তার সঙ্গে থাকলে আগামীতে এককভাবে সরকার গঠনে জাপা চমক দেখাবে। এ মুহূর্তে দেশে জাতীয়তাবাদী দল বলে কিছু নেই। যা আছে তার আদর্শ শতভাগ ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জাতীয় পার্টি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা বটে। কিন্তু পরে তিনি আদর্শ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। দেশে খুনখারাবি বেড়ে গেছে। মানুষ শান্তিতে থাকতে আমাদেরকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
গতকাল বুধবার বিকালে নগর জাতীয় পার্টি আয়োজিত মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এই সময় এরশাদ আরও বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে দেশে জনদুর্ভোগ কমে আসবে। বিদ্যুতের সমাধান হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। বিএনপির প্রতি মানুষের কোন আস্থা নেই। খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তাদেরকে পতাকা দিয়ে স্বাধীনতাকে খর্ব করেছেন।
সমাবেশে এরশাদ বলেন, দেশে এখন সুশাসন নেই। আমার হাতে তথ্য আছে। প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার সংখ্যা দেখে আঁতকে উঠি। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন এমন হয়নি। এই চট্টগ্রামকে সত্যিকার বাণিজ্যিক রাজধানীর রূপ আমরাই দিয়েছিলাম। সামনে সরকারে এলে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখানেই গড়ে তোলা হবে।
এরশাদ বলেন, আমাকে ৩৪ বছর ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দুই নেত্রী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এখন বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ মুক্তি চায়। আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন সব দলের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ ছিল। এখন তো কোন ব্যক্তিই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না। বললে গুম হচ্ছে।
জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের মানুষ হরতালকারীদের সমর্থন করে না। বোমাবাজি কখনও শান্তির পথ হতে পারে না। আগামীতে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর শাখার আহ্বায়ক মাহজাবিন মোরশেদ। বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম।
এর আগে লালদীঘি মাঠে যোগ দিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে ১০ জন এমপিসহ প্রায় বিশাল একটি বহর চট্টগ্রামে আসেন। শুরু থেকেই এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভক্তি দেখা যায় দলে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহজাবিন মোরশেদ এমপি জানান, লালদীঘির মহাসমাবেশকে ঘিরে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণ ঘটেছে। পার্টির চেয়ারম্যান সাহেবের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে। এতে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগর জাপার তৃণমূল নেতারা জানান, লালদীঘি মাঠের এ জনসভাকে ঘিরে তিন পক্ষের বিরোধ নতুন রূপ নেয়। তবে বিদ্রোহী দুই গ্রুপ পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও শেষে প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ায়। জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক তপন চক্রবর্তী বলেন, গত সোমবার রাতে পুলিশ আমার বাসায় হানা দেয়। কোতোয়ালি এলাকায় পোস্টার লাগানোর সময় আমাদের ৫ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। আমরা স্যারের (এরশাদ) অসম্মান চাই না। সোলায়মান আলম শেঠের অব্যাহতি প্রত্যাহার ও আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দুই দফা দাবিতে সমাবেশে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলাম।
অন্যদিকে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু তাহের সমর্থিত অংশ এরশাদের অনুরোধে লালদীঘি অভিমুখে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে। জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু তাহের ও সাবেক প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, সোমবার দুপুর ১১টায় পার্টির চেয়ারম্যান ৯ মিনিট তাদের সঙ্গে কথা বলেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা ও দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।
আয়োজকরা জানান, গতকাল বেলা ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি নগরীর আগ্রাবাদ হোটেল অবস্থান নেন। বিকাল তিনটায় তিনি লালদিঘি মাঠে জাতীয় পার্টি নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা আয়োজিত মহাসমাবেশে ভাষণ দেন।