শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে : ড. কামাল

image_176548.kamal hossain

 

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তা ও গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। ৯০ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর স্বেচ্ছাচারী শাসন এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার পরিবর্তে লাগাতার সংসদ বর্জন ও নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় জাতি আজ এ অবস্থায় পড়েছে। আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।ড. কামাল বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচিত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন দেশকে এক অরাজকতাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়। পরবর্তীতে জন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকারের নিকট জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃ শাসন অব্যাহত রাখে। জনগণের ম্যান্ডেট গ্রহণ না করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজেদের দলীয় সরকারের অধীনে ও নিয়ন্ত্রণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে জাতি নতুন রাজনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। দেশ আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দেশব্যাপী অনেক সহিংস ঘটনা ঘটে এবং অনেক জীবন ও সম্পদ ধ্বংস হয়।প্রবীণ এই রাজনীতিক ও আইনজীবী বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গত এক বছরে ‘নিয়ম রক্ষার সরকার’ সংলাপ সমঝোতার মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির পরিবর্তে চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরা ও সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতাসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করেছে। ৫ জানুয়ারি বর্ষপূতি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন সরকার ও ২০ -দলীয় জোট পুনরায় পরস্পর বিরোধী অসুস্থ ও নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নয়। ২০ -দলীয় জোটকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে না দেওয়ায় দেশব্যাপী অবরোধ-হরতালের ডাক দিয়েছে। একদিকে যাত্রীবাহী গাড়িতে পে‌ট্রল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ পুড়িয়ে মারছে; অন্যদিকে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং গুলিবর্ষণ করেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে।ড. কামাল হোসেন সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও সংগঠন, নারী সংগঠন, শ্রমজীবী-পেশাজীবী সংগঠনসহ সবাইকে ৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতির ভিত্তিতে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।