রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দল থেকেও বহিষ্কার

 

47264_f1

এবার দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার হলেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে তাকে কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না এ মর্মে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। লতিফ সিদ্দিকীর জবাব দিয়ে পাঠানো বক্তব্য পর্যালোচনা করে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী যে জবাব দিয়েছেন তাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, লতিফ সিদ্দিকী সদস্যপদ ফিরে পেতে আর কোন আপিল করতে পারবেন না। দলের সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে। তার সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই গতকাল দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, দলীয় নোটিশের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী ২৬ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য জমা দেন। বৈঠকে তার বক্তব্যের অংশ বিশেষ পাঠ করে শোনান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে দলীয় ফোরাম সন্তুষ্ট হতে পারেনি এবং তাকে দলে রাখলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সর্ব সম্মতভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত ও মহানবী (সাঃ)কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে দেশে বিদেশে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে লতিফ নিউ ইয়র্ক যান। তার বক্তব্য প্রচারের পর নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন যাওয়া প্রধানমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় জানিয়ে দেন। এরপর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। একই সময়ে তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি তার প্রাথমিক সদস্য পদও সাময়িক স্থগিত করে তা কেন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। লতিফ সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে এ চিঠি পাঠান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লতিফ সিদ্দিকী চিঠির জবাব দেন। দলীয় সূত্র জানায়, চিঠির জবাবে লতিফ সিদ্দিকী দলীয় ফোরামকে অনুরোধ করেন মন্ত্রিসভা ও প্রেসিডিয়াম থেকে তাকে বহিষ্কার করলেও দল থেকে যেন চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার না করা হয়।