শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

থালা-বাসন, ফোম ও কলাপাতা’ দিয়ে তেল অপসারণ শুরু

iol-sundorbon_49553

 

সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল এখন ‘থালা-বাসন, ফোম ও কলাপাতা’ দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে অপসারণের কাজ আজ শুত্রুবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। সুন্দরবন সন্নিহিত লোকালয়ের মানুষ ও জেলে-বনজীবীরা এভাবেই শ্যালা নদীসহ খাল থেকে তেল অপসারণের  কাজ শুরু করেছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন সংলগ্ন লোকালয়ে মাইকিং করে ভাসমান তেল তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় তোড়জোড়। তারা তেল সংগ্রহের পর পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে লিটার প্রতি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছে।পদ্মা অয়েল কোম্পানি সুন্দরবন থেকে এর আগে তেল কেনার ঘোষণা দিলে এগিয়ে সাধারণ মানুষ। ভাসমান তেল সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া রোধে ও তেল তোলার সুবিধার্থে জোয়ারের সময় খালগুলো থেকে ফার্নেস অয়েল যাতে বের হতে না পারে সে জন্য বৃহস্পতিবারই  খালগুলোর মুখে নেট দিয়ে ব্যারিকেট দেয়া হয়।এদিকে কাণ্ডারি-১০ এসে পৌঁছালেও রাসায়নিক ছিটানোর কাজ শুরুর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মু.শুকুর আলী। আপাতত ডিসপারসেন্ট ফোম কেমিক্যাল ছিটানোর কাজ বন্ধ রয়েছে।বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা খন্দকার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তিন দিন বন সংলগ্ন লোকালয়ের মানুষের সহায়তা নিয়েই তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। পরে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।এদিকে, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারর্বার মাস্টার কে এম আকতারুজ্জামান জানান, ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কারে ছিল প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল। কণ্ডারিতে মাত্র ১০ হাজার লিটার তেলের তেজস্ক্রিয়তা কমানোর মতো রাসায়নিক রয়েছে।উল্লেখ্য, পূর্ব সুন্দরবনের শ্যালা নদীর চাঁদপাই রেঞ্জের মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার গত মঙ্গলবার ভোরে ডুবে যায়। ট্যাঙ্কারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৮ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় ট্যাঙ্কারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান (৫০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।ওই তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক হুঁমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে জোয়ারে তেলযুক্ত পানি বনে প্রবেশ করায় গাছের গোড়ায় ও শ্বাসমূলে তেলের আবরণ লেগে যাওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পানিতে বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতি ডলফিনসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন ও ৩শ’ প্রজাতির মৎস্য সম্পদসহ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়েছে।এদিকে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যসহ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।