রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

তিস্তা চুক্তি অনিশ্চিত

50635_f4

 

সীমান্ত চুক্তি হলে নরেন্দ্র মোদি চলতি বছরের শেষে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। সেটা না হলে তিনি খালি হাতে আসবেন না। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির দূরত্ব যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে তাতে তিস্তাচুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি যে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতারাও যেখানে দিল্লি গিয়ে সাক্ষাৎ করে এসেছেন, সেখানে কোন সঙ্গত কারণ ছাড়াই ‘সুচিন্তিতভাবে’ যিনি ভারতের মাটিতে থেকেও মোদিকে কার্যত ‘বয়কট’ করে চলেছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। লোকসভা নির্বাচনের পরে মমতা এই প্রথম গতকাল দিল্লির উদ্দেশ্যে কলকাতা ত্যাগ করেছেন। আর সেটা কিনা আবার মমতার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের সভানেত্রী  সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণক্রমে। মমতার এই দিল্লি সফর তাই নানা কারণে অসাধারণ তাৎপর্যম-িত। এবং তা এতটাই বেশি যে, ১৪ই নভেম্বরের দ্য হিন্দুর এক রিপোর্টমতে খোদ মমতা শিবির আশঙ্কা করছে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি বিষয়টিকে ‘আনুগত্যহীনতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখেন কিনা। কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি থেকে আভাস দেয়া হয়েছে যে, মমতা যেন একটিবারের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ দিতে দিল্লিতে যান। কিন্তু মমতা এখনও সময় করে উঠতে পারেননি। এবং সেটা আবার এমন একটি প্রেক্ষাপটে যখন পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের কাছে দেনায় ডুবুডুবু। তার অর্থনীতির অবস্থা বেশ খারাপ। এখন পর্যন্ত যে স্বল্পসংখ্যক মুখ্যমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত রয়েছেন মমতা তাদের একজন। মমতা কংগ্রেসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহর লাল নেহরুর ১২৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে রাজধানীতে তিন দিন থাকবেন। তবে কাকতালীয়ভাবে মোদি ও মমতার উভয়ের মুখরক্ষা করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উপলক্ষ। আর তা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী ১০ দিনের একটি দীর্ঘ সফরে এখন ভারতের বাইরে রয়েছেন। তাই মমতা দিল্লিতে থাকতে মোদির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কম।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকরা এক বাক্যে বলছেন, মমতার এই সফরটি কেবলই নেহরুর জন্মদিনে যোগদানের মতো রুটিন বিষয় নয়। গত কয়েকদিন ধরে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে যে, এটা হলো ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি। মমতা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আগামী জানুয়ারিতে কলকাতায় হবে বিশ্ব বাংলা সম্মেলন। মমতা সেখানে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানাবেন। সব মিলিয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির উদীয়মান নতুন অবতার বিজেপি এবং বামফ্রন্টকে রুখতে মমতা ও সোনিয়াকে এক মঞ্চে দেখার সম্ভাবনা এখন আর কষ্টকল্পনা নয়। ঢাকার পর্যবেক্ষকরা এদিকে নজর রাখছেন একটি আশায়। তিস্তা চুক্তির কি হবে। সম্প্রতি ঢাকা সফরে আসা ভারতের সাবেক হাইকমিশনারদের কেউ দ্রুত তিস্তাচুক্তি হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেননি। সুতরাং বাংলাদেশের লাইফলাইন তিস্তার চুক্তি পুরোপুরি অনিশ্চিত। প্রণব কিংবা সোনিয়া তিস্তা চুক্তির বিষয়ে মমতাকে রাজি করাতে আদৌ কোন চেষ্টা নেবেন, সে ধরনের কিছু বিজেপি আশা করে তেমন সম্ভাবনা বা জল্পনাকল্পনা অন্তত আলোচনার টেবিলে নেই।