বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

তিস্তা ও স্থল সীমান্ত নিয়ে বিলম্বের ইঙ্গিত ভারতের

1411312416
দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন ও স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নে নিজেদের অক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে এই বার্তা দিলো ভারত। শনিবার কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বাইরে নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সাউথ ব্লকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হয়। ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিস্তার চুক্তি সই ও স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের আশা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের বার্তা ছিলো স্পষ্ট। নতুন সরকার ভারতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়। এজন্য সময় লাগবে। তিনি (সুষমা) আন্তরিক। তবে বার্তা খুবই হতাশাজনক।
অন্যদিকে, ভারতের সারদা গ্রুপের জামায়াতকে অর্থ দেয়ার বিষয়টি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠককালে তুলেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তবে পরদিন সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেননি তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদী ও হাসিনা প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। এটা নয়াদিল্লি বা ঢাকাতে হচ্ছে না। এটা হলো ভারতের প্রতিশ্রুতি পূরণে বিলম্বের কারণে সৃষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অস্বস্তির প্রতিফলন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মোদী ও শেখ হাসিনা একে অপরকে নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, তিস্তা চুক্তি সম্পাদন বা স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নের ফলাফল জনগণকে বলতে না পারা পর্যন্ত শেখ হাসিনা ভারত সফর করতে পারেন না। অন্যদিকে, অতীতের প্রতিশ্রুতি পূরণ ছাড়া নরেন্দ্র মোদীও বাংলাদেশ সফর যেতে চান না।
সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। এজন্য আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। একইসঙ্গে সুষমা বলেছেন, রাজনৈতিক মতৈক্য তৈরির পরই মোদী সরকার তিস্তার চুক্তির পথে এগোবে। এক্ষেত্রে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো কঠিন। কারণ পশ্চিমবঙ্গের  তৃণমূণ কংগ্রেস সরকার এখনো বিরোধিতা করে আসছে।