রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ঢাকার নদী খাল বাঁচিয়ে নৌপথ চালু করতে হবে

pic-17_124510

ঢাকার চারপাশের ছয়টি নদী-খালকে দূষণ ও দখলমুক্ত করাসহ খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদী এবং টঙ্গী খালের দখল রোধ করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হলে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটবে। এতে কম খরচে যেমন পণ্য পরিবহন করা যাবে, তেমনি নদীর তীরগুলো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
গতকাল ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধ ও নাব্যতা বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেন আইডিইবির প্রতিনিধিরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারপাশের ছয়টি নদী ও খাল রক্ষাসহ সারা দেশের নদ-নদী রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। নদ-নদী রক্ষায় আইডিইবিকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটনশিল্প বিকাশে সহায়ক হবে। এ জন্য আইডিইবির প্রতিনিধিদের কাছে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা চান প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় ‘বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণ ও দখলমুক্ত এবং প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে করণীয়’ শিরোনামে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। এ সময় নদীদূষণ, নদী দখল ও ভরাট এবং নদীর প্রবাহহীনতা ও উৎসমুখ বন্ধ হওয়াকে বুড়িগঙ্গা ও ঢাকার চারপাশের অন্য নদীগুলোর মূল সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীদূষণের জন্য ট্যানারি, গার্মেন্ট, ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পের অপরিশোধিত বর্জ্যই মূল কারণ।
নদীদূষণ ও দখলদারি রোধ করে নাব্যতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য বেশকিছু সুপারিশ করে সংগঠনটি জানায়, স্বল্পমেয়াদে মহানগরীর প্রধান নিষ্কাশন খাল ও জলাধারগুলোতে এরিয়েশন সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। মহানগরীতে আবাসন নকশা অনুমোদনের সময় সেপটিক ট্যাংক থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে। পাগলা ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের বর্জ্য সরাসরি নদীতে নির্গমন কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। পরিশোধন ব্যতীত শিল্প-কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা, সব নিষ্কাশন খাল পুনরুদ্ধার করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বোরোপিটগুলোতে স্টর্মওয়াটার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়াসহ প্রাকৃতিক নিয়মে পানি শোধনের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেয় আইডিইবি।
মধ্যমেয়াদে প্রত্যেক আবাসিকে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা, নগরীর পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্টর্ম ওয়াটার ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম আলাদা করা, অপচনশীল দ্রব্য নদীতে ফেলা কঠোর আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা, কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া নদীতে না ফেলার বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করা, পাগলা ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পরিশোধন ক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানো, ঢাকা মহানগরীর চারদিকে নদীগুলোর পার বা বেড়িবাঁধের ভেতরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক রিটেনশন পুকুর নির্মাণ করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। আর দীর্ঘমেয়াদে মহানগরীর পয়োবর্জ্য পরিশোধনের জন্য আরো পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণ, স্যুয়ারেজ সিস্টেম সম্প্রসারণ ও স্যুয়ারেজ বর্জ্য পরিশোধনের জন্য সংযুক্ত খালগুলোর মুখে ইপিটি বা এসটিপি নির্মাণ করা, শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে পানি আনতে নদী, খাল পুনখনন ও যমুনা নদীতে ডুবন্ত ব্যারাজ নির্মাণ করা এবং অবৈধ দখলদারি ও দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইডিইবি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ ও আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।