রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে-স্কেল

image-4_2339
অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণে গঠিত বেতন কমিশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে। এ সুপারিশ পর্যালোচনা করে বিদ্যমান সপ্তম বেতন স্কেলের ন্যায় তা আংশিক আকারে চলতি বছরের জুলাই থেকে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে আগামী বছর জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। এছাড়া এবারের বেতন স্কেলটি অতীতের তুলনায় বেশি আদর্শিক ও বাজার উপযোগী হিসেবে বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য নিয়ে বেতন কমিশন পুরোদমে নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, নানা কারণে এবারকার পে-কমিশনের সুপারিশে বেতন বৃদ্ধির হার অতীতের তুলনায় বাড়বে। ফলে বাস্তবায়নের হারও তেমন একটা কম হবে না। এছাড়া উন্নত দেশের ন্যায় পেনশনভোগীদের জন্য বাড়তি কিছু সুখবর আসতে পারে। আর কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী বেতন বৈষমের হার কমিয়ে আনতে গ্রেড সংখ্যাও কমিয়ে আনার বিষয়ে কমিশন জোরালো সুপারিশ করবে। পরবর্তীতে স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের বিষয়েও চূড়ান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে কবে নাগাদ সুপারিশ রিপোর্ট দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে বেতন ও চাকরি কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী বেতন কমিশন যথাসময়ে সরকারের কাছে রিপোর্ট প্রদান করবে। জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন প্রশ্নে বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী যে সময়সীমার কথা ঘোষণা করেছেন সেটিকে মাথায় রেখে কমিশন কাজ করছে। এক্ষেত্রে সরকারের সাধ ও সাধ্যকে বিবেচনায় নিয়ে একটি আদর্শিক ও বাস্তবমুখী পে-স্কেল গঠনে সুপারিশ দেয়ার জন্য তাদের সব কর্মী একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন।প্রসঙ্গত, অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল গঠনে ২৪ নভেম্বর সরকার ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের কমিশন গঠন করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কমিশন সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে গত জানুয়ারি মাস থেকে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অস্থায়ী অফিসে ৪৭ সদস্যের টিম নিয়ে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে সরকার অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে গত বছর ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ২০ ভাগ মহার্ঘভাতা চালু করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পে-কমিশন এবার চার সদস্যের পরিবর্তে পিতা ও মাতাকে যুক্ত করে ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণে সুপারিশ করবে।সূত্র জানায়, অতীতের পে-কমিশনগুলোর সুপারিশ রিপোর্টের চেয়েপে -স্কেল : ডিসেম্বরের মধ্যে এবারকার কমিশনের সুপারিশ রিপোর্ট আরও সমৃদ্ধ ও তথ্যনির্ভর হবে। কমিশন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন/ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করবে না; কীভাবে দুর্নীতি কমিয়ে আনা যায় সেদিকেও গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে যারা প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন কম হওয়ার কারণে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তাদের গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে সুপারিশ করা হবে। এছাড়া পেনশনভোগীদের নানা সমস্যা ও দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সুপারিশ রিপোর্টে বাস্তবসম্মত সমাধানও থাকবে। কেননা, বিদেশে একজন সরকারি পেনশনার যেভাবে জীবনযাপন করেন এবং যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন তা এখানে নেই। এ জন্য বেতন ও চাকরি কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ছাড়াও বিভিন্ন উন্নত দেশের বেতন কাঠামো সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে স্টাডি করা শুরু করেছে।জানা গেছে, কমিশনের কাছে ইতিমধ্যে পে-স্কেল বিষয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া আসতে শুরু করেছে। কেউ কেউ স্মারকলিপিও দিচ্ছে। আর এর সব কিছুই কমিশন প্রাপ্তিস্বীকার করে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করছে। শিগগিরই প্রতিটি কর্মচারী সংগঠনকে পর্যায়ক্রমে চিঠি দিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হবে। এছাড়া স্টেকহোল্ডারদের বাইরে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিয়ম করে মতামত ও পরামর্শ নেয়া হবে। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে সরকারি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে তার অন্যতম দাবি- বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতে বিদ্যমান পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে ১০-এ নামিয়ে আনা। অনেকে স্থায়ী বেতন কমিশনের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন।এক প্রশ্নের জবাবে বেতন ও চাকরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কমিশনের কার্যক্রম ভালোভাবে চালিয়ে নিতে তিনি সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কাজ করতে সরকার কমিশনকে একটি সুপরিসর অফিসও দিয়েছে। তিনি জানান, তাদের ৫ জনের পূর্ণকালীন কমিশন প্রায় মিটিং করছেন। এছাড়া ১৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিশন এ পর্যন্ত দুটি বৈঠক করেছে। চলতি মাসে কমপক্ষে আরও দুটি বৈঠক করা হবে। পে-স্কেলের সুপারিশ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি ৪ সদস্যের পরিবর্তে পিতা-মাতাকে যুক্ত করে ৬ সদস্যের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করাকে সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।বর্তমানে যে বেতন স্কেল রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ধাপে (গ্রেড-১) সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ৪০ হাজার টাকা। পূর্বের পে-স্কেলের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর সর্বনিু ধাপে (গ্রেড-২০) ৪ হাজার ১০০ টাকা। বেতন বৃদ্ধির হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এই বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয় ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর, যা ওই বছরের ১ জুলাই থেকে ভূতাপেক্ষভাবে শর্তসাপেক্ষে কার্যকর করা হয়। শর্তানুযায়ী ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং অন্যান্য বর্ধিত ভাতাদি পরবর্তী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। এর আগে ষষ্ঠ বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৫ সালের ২৮ মে। সেখানে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ছিল ২৩ হাজার টাকা এবং সর্বনিু ধাপে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
উৎস- যুগান্তর