সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো

MIRSARAI PIC 04.09.15 আকাশ ইকবালঃ মীরসরাই নিজামপুর রেল স্টেশন সড়কের উপর নির্মিত কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জানা যায়, গত ২৫ জুন প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলে সড়কটি ভেঙ্গে যায়। এই সড়কের উপর নির্ভরশীল হয়ে বাস করছে এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ । এতে অনেক দিন পর্যন্ত কোন ব্রিজ বা কালর্ভাট না থাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছিল। পরে এলাকা বাসী টাকা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। এতে ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা পারাপার হতে পারলেও চলাচল করতে পারছে কোন যানবাহন। এতে বিপাকে পড়েছে এলাকা বাসী। বাজার থেকে সওদাপাতি মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঐ এলাকায় প্রচুর সবজি ও ফসল চাষাবাদ করা হয়। এতে কৃষকরা আরো বেশি বিপাকে পড়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক দূর দিয়ে দুই তিন গ্রাম হয়ে গুরে বাজারে সবজি নিয়ে আসতে হয়। এতে যে পরিমাণ খরচ হয় তাতে সবজি বিক্রয় করে তারা তত বেশি লাভ গুনতে পারেনা। এছাড়া রোগীদের নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। আরো জানা যায় ঔ এলাকার কয়েক শত শিক্ষার্থী নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকার হাট এন.আর উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অনেক গুলো কে.জি বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আছে যারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। একই এলাকার জামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, বাঁশের সাঁকো থাকা অবস্থায় অনেক দিন এলাকার ছোট শিক্ষার্থীরা নিচে পড়ে যায়। তা দেখে এলাকা বাসী আবার গত কিছু দিন আগে আবারো টাকা তুলে এই কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের সাঁকো আগের বাঁশের সাঁকো থেকে তত ভালো নিরাপদ নয় বিশেষ করে বয়স্ক লোক ও শিশুদের জন্য। কারণ সাঁকো পারাপারের জন্য সাঁকোর দুপাশে ধরার কোন বাঁশ বা কাঠ দেয়া হয়নি। এতে শিশুদের জন্য সব ছেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নিজাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক স্বাগতম ভড়–য়া বলেন, কয়েকদিন আগে সাঁকো পারাপার করতে গিয়ে ৭বছরের একটি শিশু নিচে খালে পড়ে যায়।
স্থানীয় ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, নিজামপুর রেল স্টেশন সড়ক বন্যার পানিতে ভেঙ্গে যাওয়ার পর এলাকা বাসী খুব বড় একটা বিপাকে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ হয়েছে এবং খুব শীগ্রই এখানে কালর্ভাট করা হবে। এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এএসএম রাশেদুর রহমান বলেন, এইবার বর্ষায় মীরসরাইয়ের মোট ১৭টি সড়কের অবস্থা করুন। এগুলো মেরামতের জন্য উধর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছি। ১৭টি সড়কের মধ্যে নিজামপুর স্টেশন সড়কটিও রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমদ সুমন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করার জন্য উধর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ আসলে এগুলো খুব দ্রুত মেরামত করা হবে।
দেখা গেছে নিজামপুর রেল স্টেশন সড়কে শুধু এই ভাঙ্গা নয়, নিজামপুর বাজার থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত আরো দুই তিন স্থানে ভাঙ্গা রয়েছে। আরো দেখা যায়, সড়কের পাশে সোনাই চড়ি খালে সড়ক ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে।
এলাকার ১০ হাজার মানুষের এখন প্রাণের দাবি যত দ্রুত সম্ভব সড়কের সংস্কার ও কালর্ভাট যেন করা হয়।