রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

জার্মানিকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার মধুর প্রতিশোধ

pi1449

মাত্র ৫০ দিন আগের কাহিনী। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিশ্বজয়ের আনন্দ করছে জার্মানরা; পাশেই বিষন্ন মনে মাথা নিচু করে রয়েছে আর্জেন্টাইনরা। ৭ সপ্তাহের ব্যবধানে রিও ডি জেনেরিও’র এই চিত্রপট পাল্টে গেছে ডুসেলডর্ফের মাঠে। এবার জার্মান ফুটবলাররা মাঠ ছেড়েছে পরাজয়ের গ্লানি মেখে; জয়ের আনন্দে ভেসেছে আর্জেন্টিনা। বুধবার রাতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টাইনরা। সঙ্গে ব্রাজিলের মাটিতে হারের প্রতিশোধ জার্মানির মাটিতে খুঁজে নিয়েছে তারা। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার জাদুকরী ফুটবল আর দলীয় দারুণ বোঝাপড়ায় জার্মানির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উপাধিতে লজ্জা মাখিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বুধবার রাতে ডুসেলডর্ফের মাঠে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দেশ। বিশ্বকাপ ফুটবলের দুই ফাইনালিস্টের লড়াই বলে ম্যাচটাকে বলা হচ্ছিল ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল রিম্যাচ’। প্রীতিম্যাচ হলেওে তাই এতে উত্তাপ কম থাকেনি। জার্মানি যেমন নিজ মাটিতে এই ম্যাচ খেলতে নেমেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যদা ধরে রাখতে; আর্জেন্টিনাও তেমন এই ম্যাচ খেলতে নেমেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে। শেষ অবধি প্রতিশোধ নিয়েই মাঠে ছেড়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে বিশ্বকাপ জেতার পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জার্মানিকে পুড়তে হয়েছে ৪-২ গোলে হারার লজ্জায়। আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে জেরার্ডো মার্টিনোর এটি প্রথম ম্যাচ। কিন্তু ‘টা টা মার্টিনো’ বলে পিরিচিত এই কোচ নিজের অভিষেক ম্যাচেই দলে পাননি লিওনেল মেসি নামক বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারটিকে। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলা হয়নি মেসির। তবে মেসির অনুপস্থিতি দলকে বুঝতে দেননি অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের স্পটলাইট নিজের উপরই রেখেছেন তিনি। সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ট্রান্সফার ফি’র ব্রিটিশ রেকর্ড গড়ে তাকে দলে ভিড়েয়েছে। বুধবার রাতের ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩টি গোলের কারিগর মারিয়া। আর নিজেও করেছেন ১টি গোল। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ৪টি গোলেই জড়িয়ে আছে ডি মারিয়ার নাম। ২০ মিনিটে জার্মানির অরক্ষিত গোলপোস্টের সামনে থাকা সার্জিও অ্যাগুয়েরোর উদ্দেশ্যে নিখুঁত ক্রস করেছেন মারিয়া। বাতাসে ভেসে আসা বলেই বুটের মাপা ধাক্কায় জার্মানির জালে বল জড়িয়েছেন অ্যাগুয়েরো। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেছে ১-০ গোলে। ৪০ মিনিটে ঠিক একই ভাবে ২-০ গোলে এগিয়ে গেছে মার্টিনোর দল। এবার জার্মানির ডি-বক্সের মাথায় থাকা এরিক লামেলাকে বল ক্রস করেছেন মারিয়া। বলটিকে মাটিতেও পড়তে দেননি মেসির অবর্তমানে দলে সুযোগ পাওয়া এই তরুণ আর্জেন্টাইন ফুটবলার। বুটের জোর ধাক্কায় জার্মানির জালে বল জড়িয়ে দিয়েছেন নিপুণ দক্ষতায়। বিরিত পর্যন্ত ২-০ গোলেই এগিয়ে থেকেছে আর্জেন্টিনা। এই অর্ধে জার্মানিকে যেন ঠিক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিরতির পরপরই (৪৭ মিনিটে) তৃতীয় গোল হজম করেছে জার্মানরা। ফ্রি-কিক পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রি-কিক থেকে মাপা শট নিয়েছেন মারিয়া। জার্মানির ৩ ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে লাফিয়ে উঠে হেড করে বলটিকে গোলে পরিণত করেছেন ফার্দিসো ফারনান্দেজ। এই গোলের ৩ মিনিট পরই জার্মানির জালে চতুর্থ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার নিজেই গোল করেছেন মারিয়া। ডানপ্রান্ত থেকে দুরন্তগতিতে বল নিয়ে জার্মানির বক্সে ঢুকে পড়েছেন তিনি। তাকে বাধা দেওয়ার সবরকম চেষ্টাই করেছেন জার্মানির এক ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। দু’জনকে বোকা বানিয়ে আলতো টোকায় বল চিপ করেছেন মারিয়া। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেছে ৪-০ গোলে। ৫২ মিনিটে জার্মানির হয়ে ১টি গোল শোধ করেন আন্দ্রে স্কুরলে। এর পরপরই ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৫ গোল করা থমাস মুলার ও ফাইনালে জার্মানিকে জয়সূচক একমাত্র গোলটি উপহার দেওয়া তরুণ মারিও গোৎসেকে মাঠে নামিয়েছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। তাদের উপস্থিতিতে জার্মানির আক্রমণের ধার বেড়েছে। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে জার্মানরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৮ মিনিটে জার্মানিকে দ্বিতীয় গোল পাইয়ে দিয়েছেন গোৎসে। যদিও এই গোলের পেছনে জার্মানদের সৌভাগ্যও কাজ করেছে। কারণ ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোৎসের নেওয়া শটে বল আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের বাইরের দিকেই ছুটছিল। কিন্তু পোস্টের সামনে থাকা ফারনান্দেজের গায়ে লেগে তা দিক পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে গিয়েছে। বাকিটা সময় গোল পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে জার্মানি। গোলের নেশায় পাল্টা আক্রমণও অব্যাহত রেখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ অবধি ৪-২ গোলে ম্যাচ জিতে জার্মানদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে হারের প্রতিশোধ নিয়েছে আর্জেন্টাইনরা। টানা দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ হিসেবে মার্টিনোর যাত্রাটাও হয়েছে শুভ। আর বিশ্বকাপের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে জার্মানির সঙ্গী হয়েছে হারের লজ্জা। সঙ্গে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর প্রথম হারের স্বাদও নিতে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।