মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

জাইকা ১২০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে

image_81049.jaika

 

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) আগামী অর্থ বছরে বিদ্যুৎ খাতসহ সরকারের অন্যান্য প্রাধিকার খাতে ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাইকা’র বাংলাদেশ প্রধান মাইকিও হাতেয়দা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে এক বৈঠকে এ তথ্য জানান।
জাইকা প্রধান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে। তবে এ জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের গতিশীলতা আরো কিছুটা বাড়াতে হবে।’পরিসংখ্যান দিয়ে জাইকা প্রধান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়ন সময় বেশি লাগে। এতে প্রকল্প খরচ বেড়ে যায়। তিনি ১২০০ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, এতবেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলাদেশকে তার প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাধিকার নির্ধারণ এগুতে হবে।মাইকিও বলেন, পরিকল্পনা কমিশন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে তারা সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিবে। প্রকল্পটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী জুন মাসে বাংলাদেশকে নিয়ে জাইকার পরিকল্পনা বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ সময় জাইকা প্রধানকে জানান, পরিকল্পনা কমিশনের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির জন্য জাইকার প্রকল্পটি অত্যন্ত ইতিবাচক। জাইকা আগামী বছরে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চাওয়ায় মন্ত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ উত্পাদন, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, গুণগত শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, নদী খনন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে।মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জাইকা এসব খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবে। তিনি ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগযোগ্য দেশের তালিকা রাখার জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান।পরিকল্পনাসচিব ভূইয়া সফিকুল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে, এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রীর এক বৈঠকে সদ্ধিান্ত নেওয়া হয় যে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দেশে প্রথম বারের মতো অর্থনৈতিক মেলা আয়োজন করবে।মেলার আয়োজনের তারিখ ও স্থান নির্ধারণের জন্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন।সভায় জানানো হয়, আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাখ নির্ধারণে সম্ভাব্য করণীয় মেলায় উঠে আসবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনগুলো মেলায় প্রদর্শন করা হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারেরও পদক্ষেপগুলো মেলায় প্রদর্শিত হবে। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গত ৪৪ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি তুলনামূলক প্রদর্শনীও মেলায় তুলে ধরা হবে।