শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গুম-খুনের জবাব প্রধানমন্ত্রীকেই দিতে হবে

39332_f7

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই গুম-খুনের জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বলেছেন, পুলিশ-র‌্যাব সরকারের অংশ। গুম-খুনের জন্য সরকারই দায়ী। যারা মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন তাদেরকেই এর জবাব দিতে হবে। র‌্যাব-পুলিশের কাছে বিচার দিয়ে লাভ নেই। কারণ তারা সরকারের হুকুম পালন করেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘গুম ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বজনহারাদের উদ্দেশে বি. চৌধুরী বলেন, আজকে আপনাদের সঙ্গে আমিও মর্মাহত। এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। যাতে ন্যূনতম সময়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। সেই সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুম, খুনের বিচার করবে। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর সন্ধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী দেখা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও তাকে খুঁজে দেয়ার কোন আন্তরিকতা দেখা যায়নি। কোন অগণতান্ত্রিক সরকারের কথা আন্তরিক হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বি. চৌধুরী বলেন, র‌্যাব এতগুলো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাদের অকার্যকর করা হচ্ছে না। যতদিন পর্যন্ত গুম, খুনের বিচার না হবে ততদিন দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাবে না। মানুষ সব সময় গুম আতঙ্কে থাকবে। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতারা বড় বড় কথা বলছেন। তারা এক অগণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেছে। তারা কিভাবে গণতান্ত্রিক কথা বলবে? তাই নিজেদের রক্ষায় তারা নতুন নতুন আইন তৈরি করছে। তার বড় প্রমাণ বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়ার উদ্যোগ। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রউফ বলেন, রাজনীতির অর্থ হলো নীতির রাজা। কিন্তু এ সরকার রাজার নীতি অনুসরণ করছে। তাই তো গুম-খুনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। রাজনীতির অপপ্রয়োগ হচ্ছে মন্তব্য করে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে যে ভাষার প্রয়োগ হচ্ছে তাতে আগামী প্রজন্ম এই রাজনীতিবিদদের শ্রদ্ধার পরিবর্তে ঘৃণা করবে। সরকারের উদ্দেশে বিএফইউজের (একাংশ)-এর সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, মিথ্যা দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করুন। জিয়াউর রহমান মুজিব হত্যায় গ্রিন সিগন্যাল দেননি। সাত খুনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অভিযোগের আঙুল আপনার দিকে। এই সাত খুনের দায় আপনাকে নিতে হবে। এজন্য জনগণ আপনার কাছে বিচার চায় না, তারা বিচার চায় আল্লাহর কাছে।
নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, আর কোন স্ত্রীকে যেন আমার মতো অপেক্ষার প্রহর গুনতে না হয়- এই দোয়া করি। এ অপেক্ষা জীবনব্যাপী। আর এ অপেক্ষার ফলে হৃদয়ে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে যা কাউকে দেখানো যায় না। নিখোঁজ ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ফেরদৌসী আরা বলেন, হয় ভাইকে ফেরত দাও না হয় খুঁজে দাও। এছাড়া অনুষ্ঠানে গুম হওয়া ১৫ জনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে চৌধুরী আলমের ভাই মোর্শেদ আলম, খালেদ হাসান সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা, সম্রাট মোল্লার বোন কানিজ ফাতেমা রিতা, তারেকুল ইসলাম ঝন্টুর ভাই সাইফুল ইসলাম মিথুন, মো. চঞ্চলের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজে’র মহাসচিব (একাংশ) এমএ আজিজ, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ড. এম শামছুল আলম, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।