সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গুন্ডের মুক্তিযুদ্ধ অবমাননা ‌এবং অবশেষে ক্ষমা প্রার্থনা

image_54353.gunday_story_650_012314111224-320x200

 

সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পাওয়া গুন্ডে সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। বলিউডে আলী আব্বাস জাফর পরিচালিত গুণ্ডে চলচ্চিত্রটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্লগ ও ফেসবুকে সমালোচনা হচ্ছে। যশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ওই চলচ্চিত্রটি ১৪ ফেব্রুয়ারি হিন্দির পাশাপাশি কলকাতায় বাংলা ভাষায়ও মুক্তি পায়।
গুন্ডে চলচ্চিত্রটি শুরুর প্রথমভাগেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ভিডিও চিত্র দেখানোর পাশাপাশি বলা হয়, ‘ষোলা ডিসেম্বর উনিশশো একাত্তর। হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান কি বিছ মে তিছরা ইয়ুদ্ধ খত হুয়া। নব্বই হাজার পাকিস্তানি সোলজারস নে হিন্দুস্তানি আরমি কি সামনে স্যারেন্ডার কিয়া। দুছরে বিশ্বযুদ্ধ কি বাদ কিছিবি দেশ দোয়ারা কিয়া গিয়া এ সবচেয়ে বড়া স্যারেন্ডার থা। ওর পয়দা হুয়া এক নয়া দেশ, বাংলাদেশ। যব হিন্দুস্তানি আরমি ঢাকা ছোরকি যা রাহি থি। তো কাটালি বারকি পিছে খাড়া গ্যারা ওর বারো সালকি দু অনাথ দোস্ত, বিক্রম ওর বালা এ নেহি সামাজ পা রাহা থি উনকি সাথ যো হুয়া ও ছোহি হুয়া অর গালাত! কিয়া নয়া দেশ ওনে নয়া জিন্দেগী দেগা? উনকি আখোঁ মে স্রেফ এহি সওয়াল থা।’ বাংলায় যার অর্থ দাড়ায়- ‘১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ শেষ হয়। ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনা হিন্দুস্তানের সেনাদের সামনে আত্মসমর্পণ করেন। জন্ম হয় এক নতুন দেশ, বাংলাদেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে কোন দেশের পক্ষ থেকে এটি সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ। যখন হিন্দুস্তানের সেনারা ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছিল, তখন কাঁটাতারের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল ১১-১২ বছরের দুই অনাথ বন্ধু বিক্রম ও বালা। তারা এটা বুঝতে পারছিল না, তাদের সাথে যা হলো তা কি ঠিক ছিল, নাকি ভুল। নতুন দেশ কি তাদের নতুন জীবন দেবে? তাদের চোখের সামনে শুধু এই প্রশ্ন ছিল। ‘ চলচ্চিত্রটিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফুটেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখানো হলেও কোথাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে গুন্ডে নিয়ে সমালোচনা চলছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, ওই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মহান মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা হয়েছে।
এদিকে এই সময় জানিয়েছে ‘ইতিহাস বিকৃতি’র অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন বলিউডি ছবি ‘গুন্ডে’র নির্মাতারা। কয়লা মাফিয়াদের জীবন ঘিরে নির্মিত এই ছবিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সে দেশের মানুষ। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে এ নিয়ে চর্চাও হয়। এরই জেরে নিজেদের ফেসবুক ফ্যান পেজে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে ‘গুন্ডে’র প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মস। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার করেনি সংস্থাটি।প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুর অভিনীত সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির শুরুর অংশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটা উল্লেখ রয়েছে। সদ্য গঠিত রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আশ্রয় নিতে আসা দুই বালক কী ভাবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে, তাই দেখানো হয়েছে ছবিতে। ছবির প্রথমদিকের সেই কয়েকটি দৃশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ছোট করে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ সে দেশের মানুষের। ‘গুন্ডে’র বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হয় বাংলাদেশী তরুণ সমাজ। এরপরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষমা চাইল যশরাজ ফিল্মস।ফেসবুক ফ্যান পেজে যশরাজ ফিল্মস জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটি নিয়ে আসার মাধ্যমে কারো মনে দুঃখের উদ্রেক হয়ে থাকলে তারা সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। পোস্টে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম দুঃসাহসিকতা ও ত্যাগের কথাও বলা হয়। বাংলাদেশের মানুষের কঠোর সংগ্রামও এই উপমহাদেশ জানে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

উৎস- কালেরকন্ঠ