বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গণআন্দোলনেই সরকার হটবে

33882_fkh

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঈদের পর ‘দখলদার’ ও ‘অবৈধ’ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে গণআন্দোলন শুরু করা হবে। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনে শরিক হবেন আশা করি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসির সাক্ষাৎকারে সংলাপ সমঝোতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ তারা সংলাপ চাচ্ছেন না। সংলাপ-সমঝোতা না হলে বিএনপির সামনেও আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় বসে অবৈধ সরকার এখন উল্টাপাল্টা বলছে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমরা পাঁচ বছর ধরে আন্দোলন করছি। ঈদের পর আবার সেই আন্দোলন শুরু হবে। জনগণের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর বড় প্রমাণ- গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। জনগণ সরকারের এই দুঃশাসন থেকে বাঁচতে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে সবাই প্রশ্ন তুলেছে। ৫ ভাগ ভোটের অবৈধ সরকারের উচিত হবে- জনমতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ঈদের পর ঘোষিত আন্দোলনের রূপরেখা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই আমরা আন্দোলন-কর্মসূচিতে যাব। দল ও ২০ দলীয় জোটে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে। আমরা কোনো সহিংসতা চাই না। কিন্তু দুঃখজনক হলো- সরকারই আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে পেটোয়া বাহিনী লেলিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের গুণ্ডাপাণ্ডারাও মাঠে নামে। এ কারণেই সহিংসতা সৃষ্টি হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, সামনে আমরা রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি দেব। অহিংস আন্দোলনই আমাদের লক্ষ্য। ইতিমধ্যে আমাদের চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন। নেতা-কর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলও অতীতের চেয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিলে দায়-দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। আশা করি, সরকারের বোধোদয় হবে। বিএনপিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনও পুনর্গঠন করা হবে। ইতিমধ্যেই ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। দক্ষ ও জনপ্রিয় নেতা মির্জা আব্বাস ও তরুণ নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে মহানগর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়েও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। ঈদের পর ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোও নতুনভাবে গঠন করা হবে। জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করেই দলের কাউন্সিল হবে।

উৎস- বাংলাদেশ প্রতিদিন