বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

খেলব আরও আক্রমণাত্মক

6_12970

মেসি সর্বকালের সেরা। সে বিশ্বকাপ জিতলেই কি, না জিতলেই কি? টানা চার-চারবার ফিফা ব্যালন ডি অর জেতা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়!’ -কয়েকদিন আগে বলেছিলেন নেদারল্যান্ডস কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ। এমন কথায় ভক্তরা উল্লসিত হলেও মেসি নিজে কিন্তু খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। সদা বিনয়ী মেসি এমন কথা শুনে হয়তো লজ্জায় লাল হয়েছিলেন।মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে যখনই তাকে ম্যারাডোনা-পেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গেই মৃদুস্বরে প্রতিবাদ করে মেসি বলেছেন, ‘ওনারা দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। আমি তো তেমন কিছু করতে পারিনি।’ দুরন্ত ফুটবল প্রতিভার পাশাপাশি লিওনেল মেসির অত্যন্ত ভদ্র ব্যবহারের কারণেই তার ভক্ত বিশ্বজোড়া। কি ব্রাজিল, কি ইংল্যান্ড -কোথায় নেই মেসির ভক্ত! ১৯৮২ সালে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনা ইংলিশদের চিরশত্রুতে পরিণত হয়। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের দুচক্ষে দেখতে পারে না তারা। কিন্তু সেই ইংল্যান্ডেই এখন লাখ লাখ মেসির ভক্ত। কিছুদিন আগে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক জন টেরি বলেছিলেন, তার মেয়ে নাকি মেসি ছাড়া কিছুই বোঝে না। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এক ভক্ত তো কয়েক দিন আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনুশীলন চলাকালে মেসির কাছে গিয়ে পরম মমতায় তার বুট মুছে দিয়েছেন। পরে মেসিও তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। পুরো বিশ্বই এখন মেসিতে মোহিত। হয়তো আজ ইরানের সমর্থকরাও চাইবেন, আর্জেন্টিনা হারুক কিন্তু মেসি ভালো খেলুক। আর্জেন্টাইন তারকা তার ফুটবল প্রতিভা এবং অতি বিনয়ী স্বভাবের কারণে গোটা বিশ্বকে জয় করে নিয়েছেন। পেলে কিংবা ম্যারাডোনা- হয়তো ফুটবল প্রতিভার কারণে ভক্তদেন মণিকোঠায় ঠাঁই পেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের আচরণের কারণে অনেকবার নিন্দিতও হয়েছেন। এখানেই মেসি তাদের দুজনের তুলনায় আলাদা। পেলে ও ম্যারাডোনাকে নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়া ভক্তদের এক ‘ছাতা’র নিচে নিয়ে এসেছেন মেসি। তাই ক্রুইয়ের ‘সর্বকালের সেরা’ কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই। তবে মেসি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েই বিশ্বসেরা হতে চান। ব্রাজিল বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে জয় দিয়ে মেসিদের মিশন শুরু হয়েছে। আজ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রতিপক্ষ ইরান। তবে আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচে রক্ষণাত্মক পদ্ধতিতে খেলতে চান না মেসি। বরং রাখঢাক না করে বলেই দিয়েছেন, এ ম্যাচে আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব। এবারের বিশ্বকাপে বসনিয়া নতুন দল হলেও অনেক শক্তিশালী। গ্রুপের অন্য দুই দল ইরান ও নাইজেরিয়ার চেয়ে বেশখানিকটা এগিয়ে। তাই প্রথম ম্যাচেই কঠিন দলের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় খানিকটা স্বস্তিতে রয়েছেন মেসি। ইরানের বিরুদ্ধে আজ বড় জয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বার্সেলোনার সুপারস্টার। তাই বলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে মাঠে নামার আগেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না, বরং সমীহ-ই করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মেসি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দুর্বল না শক্তিশালী তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা আর্জেন্টাইন। নিজেদের কাজ করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিপক্ষকে হারাতে চাই নিজেদের খেলাটা উপহার দিয়ে। যদিও প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। তাই ইরানের বিরুদ্ধে আমরা আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে হাজির হব।’