বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

খালেদা আত্মসমর্পণ করবেন না গ্রেপ্তারেও আন্দোলন চলবে

pic-14_192755
গ্রেপ্তার করা হলে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর কর্মসূচির মধ্যে অবরোধের সঙ্গে হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণাও তিনি দিয়ে যাবেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা সামনে রেখে বিএনপি নেত্রীর আগাম এমন প্রস্তুতির খবর দলীয় বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা করে জানা গেছে। গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবস্থানকারী একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি খালেদা জিয়া নিয়ে রেখেছেন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হলে তিনি কী নির্দেশনা দেবেন সেই বিষয়েও নেওয়া হয়েছে আগাম প্রস্তুতি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই নেতারা। তাঁরা বলেন, গ্রেপ্তার হলেও চলমান দাবি আদায়ের আন্দোলন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বিন্দুমাত্র পিছু হটবেন না। আন্দোলনও শিথিল করা হবে না।
সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকারী নেতা ও কর্মকর্তারাও গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্যের পাশাপাশি কাপড়চোপড়ও গুছিয়ে রেখেছেন অনেকে।
দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণে যাবেন না। নিরাপত্তার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। তবে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর প্রতিনিধিকে যদি আদালতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে সেটা করা হবে বলে জানা যায়। কিন্তু খালেদা জিয়া নিজে আদালতে যাবেন না।
উল্লেখ্য, ওই দুটি মামলায় হাজির না হওয়ায় গত বুধবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পর থেকেই গুঞ্জন চলছে, যেকোনো সময় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এদিকে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কী হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপিসহ ২০ দলের নেতা-কর্মীরা কী করবেন- এ প্রশ্ন ঘুরে-ফিরে উঠছে। তাই খালেদা জিয়াসহ গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকারী নেতারা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা-পরামর্শ করছেন।
এক-এগারোর পরে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন খালেদা জিয়া। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ওই সময় দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনার জন্য আগাম একটি চিঠিতে তিনি স্বাক্ষর করে রাখেন, যা ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করার পরই কার্যকর করা হয়।
মান্নান ভূঁইয়াকে বাদ দিয়ে ওই সময় মহাসচিব করা হয় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন এ নিয়ে বিএনপি নেত্রী ততটা চিন্তিত নন। কারণ দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই তিনি দল পরিচালনা করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর বাইরে দলের তৃণমূল নেতাদের কিছু দিকনির্দেশনাও খালেদা জিয়া দিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে তাতে আন্দোলন থামবে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, এটা বোঝা যায়।
যোগাযোগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তার করা হলে অলআউট আন্দোলন শুরু হবে। গ্রেপ্তার হলে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যাবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, বরং আন্দোলন আরো নতুন মাত্রা পাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে খোকা বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে নিশ্চয়ই বিএনপি চেয়ারপারসনের চিন্তা আছে। সময়মতো তিনি দিকনির্দেশনা দেবেন।
জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলে আন্দোলন কিভাবে চলবে এ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আমাদের আগেই ধারণা ছিল। তাই কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো, হরতাল ও অবরোধ বহাল থাকবে। আর জোট নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলে এর সঙ্গে যোগ হবে অসহযোগ আন্দোলন। তবে এসব কিছু নির্ভর করছে সরকার কী ভূমিকা নেয় তার ওপর।’ তিনি বলেন, সরকার গরম হলে আন্দোলন গরম আর নমনীয় হলে ২০ দলও নমনীয় হবে।

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গুলশান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি তো আর আন্দোলন থামিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন না; বরং আন্দোলন বেগবান করার নির্দেশনা দিয়ে যাবেন- এটাই স্বাভাবিক।