বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

খালেদার নতুন রোডম্যাপ

1_4771

দল পুনর্গঠন ও আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরিতে মগ্ন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিরোধ ও ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র ব্যর্থতার পোস্টমর্টেম করে নতুন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে গতি ফিরিয়ে কর্মীদের রাজপথমুখী করার কর্মসূচি নিচ্ছেন তিনি। দল পুনর্গঠন ও ফলপ্রসূ আন্দোলনের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতাশ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বিভাগীয় বেশ কয়েকটি জেলাও সফর করবেন বিএনপিপ্রধান। এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ কয়েকটি অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কমিটি হচ্ছে হবে বলে দুই মাস কেটে গেছে। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতেই আজ শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে আসন্ন রমজানের পূর্বাপর আন্দোলন কর্মসূচি ছাড়াও দল পুনর্গঠনের বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া। ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের পরও বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। সামনে আরও কর্মসূচি আসবে। একই সঙ্গে দলকে আরও শক্তিশালী করতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও চলবে। আসন্ন রমজানের আগে অহিংস কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দেন বিএনপির এই মুখপাত্র।জানা গেছে, গুম, খুন ও অপহরণসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রমজানের আগে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে আপাতত হরতাল বা অবরোধের মতো সহিংস কোনো কর্মসূচি নয়। রমজানের পর পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি। এর আগে বেগম জিয়া বেশ কয়েকটি জেলায় জনসভা করবেন। অপহরণের পর সাত ব্যক্তি খুন হওয়া পরিবারের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে ১৪ মে নারায়ণগঞ্জে যাবেন তিনি। সমাবেশের অনুমতি না পেলেও পরিবারের সঙ্গেই দেখা করতে যাবেন তিনি। এর পর জুনে সেখানে একটি বড় জনসভা করা হবে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গে নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, চট্টগ্রাম বিভাগে লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় জনসভা করবেন বেগম জিয়া। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা সফর করবেন। সূত্র জানায়, ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের বিপরীতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে বিএনপিতে। নিকট অতীতে হরতাল ও অবরোধে যেসব সহিংসতা ঘটেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় দলটি। দেশে-বিদেশে এ নিয়ে নানা সমালোচনার কারণে আপাতত এসব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে তারা। এ জন্যই জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গুম, খুন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণঅনশন, লংমার্চ, সভা-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়। আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণকে শরিক হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষুব্ধ ও হতাশ তৃণমূল : কেন্দ্রের আচরণে ক্ষুব্ধ ও হতাশ তৃণমূল। সংসদ নির্বাচনের পর আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ায় বেকায়দায় পড়েন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। হামলা-মামলায় জর্জরিত এসব নেতা-কর্মীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে তারা ফের আÍগোপনে চলে যান। এরই মধ্যে অনেকেই গুম-খুনের শিকার হন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের মূল্যায়নেও এমন চিত্র উঠে এসেছে। ক্ষুব্ধ ও হতাশ এসব নেতা-কর্মীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুনভাবে তাদের মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আন্দোলনমুখী করতে বেগম জিয়া জেলা সফর করবেন বলে জানা গেছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কয়েক দফা ঘোষণা দিয়েও ঢাকা মহানগর কমিটি দিতে না পারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ব্যর্থতা। ঢাকার বাইরে আন্দোলন হলেও রাজধানী ছিল নিষ্প্রভ। তারা মনে করেন, ‘হুটহাট’ করে জেলা কমিটি ভাঙাগড়ার কারণে মাঠে নতুনভাবে কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। কেন্দ্রের নেতাদের বড় একটি অংশও মনে করে, ভুল পথে হাঁটছে বিএনপি। মূল সমস্যা ঢাকার কমিটি না দিয়ে বিএনপি উল্টোপথে হাঁটছে বলেও মনে করেন তারা। এতে মাঠ পর্যায়ের পুরনো কোন্দল নতুনরূপে দানা বাঁধছে। জানা গেছে, জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাদের মতামতেরও গুরুত্ব থাকছে না। অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল যাদের দায়িত্বে চাইছে গুলশান কার্যালয় থেকে ভিন্ন নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মাঠের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। কমিটি ভাঙাগড়ার ক্ষেত্রে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। আবার বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি তারুণ্যনির্ভর হবে- নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলেও আহ্বায়ক কমিটিতে সেই বার্ধ্যকের ছাপও লক্ষ করা গেছে। এতে আগামীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন নেতা-কর্মীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান জানান, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ও পরে নেতা-কর্মীদের ওপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। তাদের পুনরুজ্জীবিত করতে দল পুনর্গঠন ছাড়াও নতুনভাবে রাজপথে নামতে হবে। এ জন্যই ঘর গোছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা সেই পথেই হাঁটছি।কাউন্সিল করার পরিকল্পনা নেই : জেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চললেও আপাতত কাউন্সিল করার পরিকল্পনা নেই বিএনপির। জেলার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে বেশি মনোযোগী দলটি। আগামী রমজানের আগেই এসব কমিটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়। তবে এ নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা। মহানগর কমিটি হচ্ছে হবে বলে দুই মাস ধরে শোনা যাচ্ছে। কাউন্সিল প্রসঙ্গে দলের একজন প্রভাবশালী নেতা জানান, আপাতত দলের কাউন্সিল হচ্ছে না। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ পেলে এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যাবে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কাউন্সিল করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে দলে নতুন করে ঝামেলা সৃষ্টি হবে। তাই শীর্ষ নেতৃত্বও কাউন্সিলে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। – See more at: http://www.bd-pratidin.com/2014/05/10/4771#sthash.A2QJrugv.dpuf