বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪, ২৬ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লক্কর ঝক্কর চয়েস গাড়িগুলোতে ভোগান্তি যেন কেউ দেখছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক :: web-1নাম চয়েস। ভাড়া আশি টাকা। রুট বারইয়ারহাট টু চট্টগ্রাম। আবার কখনো কখনো একশত টাকাও নেয়া হয়। চড়া ভাড়া নেয়া স্বত্বে ও লক্কর ঝক্কর গাড়ি গুলো পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে চলছে এই চয়েস বাস সার্ভিস। যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। আবার মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উঠেছে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশসের মেয়র আ জ ম নাছির, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের যুগ্ম শ্রম পরিচালক ও মীরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা ও জানা গেছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সবাই আবারো হয়ে যায় নীরব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চয়েস সাভিসের অধিকাংশ গাড়ি অন্য লাইনে আনফিট হয়ে যাবার পর এই রুটে আনা। মোটা অংকের ফ্রি নিয়ে লক্কর ঝক্কর গাড়িগুলো চয়েস লাইনে ভর্তি করা হয়। গাড়িগুলো ছোট ছোট সিটে যাত্রীদের বসতে অসুবিধা হয়। সিটগুলো দুর্গন্ধযুক্ত। নিয়ম রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে দেড় ঘণ্টার সময় নির্ধারণ করা হলেও চট্টগ্রাম থেকে বারইয়ারহাট পৌছাতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। চয়েস বাসের নিয়মিত যাত্রী এনজিও কমকর্তা শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী জানান, ছোট ছোট সিটে পা রাখা যায় না। এছাড়া সিটগুলো দুর্গন্ধে ভরা। একাধিকবার গাড়ির চালক ও হেলপারকে বলার পর গাড়িগুলো কোন উন্নতি হয়নি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা চয়েস বাসের যাত্রী ্ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান চট্টগ্রাম থেকে এখানে অন্যান্য সকল বাস ৫০ টাকা নিচ্ছে। ভালোমানের যাত্রীসেবা পেতে প্রায় দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে এলাম। অথচ বাসের সংকীর্ণ সীটে পায়ে ব্যাথা হয়ে গেছে, আবার ভাঙ্গাচোরা বডি নিয়ে বাসটি কয়েকবারই যেন হুমড়ীখেয়ে রাস্তার বাহিরে যাবার উপক্রম। তিনি আরো বলেন কিছু অসাধু সিন্ডিকেট বিভিন্ন মহলকে হাত করে এই নিন্মমানের ঝুকিপূর্ণ সার্ভিস সবাইকে নীরবে সইতে হচ্ছে। অথচ দেশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে যাওয়া এই রুটই এখনো পিছিয়ে।
এই চয়েস ও উত্তরা পরিবহনগুলো সহ আনফিট সকল গাড়ীতে জন ভোগান্তির বিষয়ে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স প্রয়োজন বলে মনে করেন বারইয়াহাটের সচেতন নাগরিক শান্তিনীড় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান জানান, চয়েস সার্ভিসের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। তিনি গৃহায়ন গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে একটি সঠিক সমাধান করবেন।
অভিযোগে আরো জানা যায় চট্টগ্রাম ধুম-শুভপুর বাস মিনিবাস সমিতির কমিটিতে ও রয়েছে দ্বন্ধ গ্র“পিং এছাড়া পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনছে ও বলে জানা যায় ।
আবার এছাড়া শুধু চয়েস বাস নয় হিউম্যান হলার গুলোর অদ চালক, রুটপারমিট ও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখনো নিত্য চলাচল করছে । লক্কড়ঝক্কড় মার্কা এসব গাড়ীগুলোতেই ছোট বড় দূর্ঘটনা প্রবনতা বাড়ানোর কারন বলে মনে করছে সচেতন মহল।
গত ১ বছরে এক সাথে ৫জন, ৭জন, সহ বেশ অর্ধশত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই চট্টগ্রাম থেকে ফেনী অংশে। দুর্ঘটনা প্রবনতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সবাই সচেতনতার চেষ্টা করলে ও কার্যকর উদ্যোগ এখনো ল্য করা যাচ্ছে না। কারন এখনো আনফিট সকল শ্রেনীর গাড়িই মহাসড়কে চলছে নিত্য।
এদিকে হিউম্যান হলার বা লেগুনা নামের কিছু বাহনের মালিক-শ্রমিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। এসব লেগুনার অধিকাংশ চালকই অদ ও শিশু-কিশোর। ১২ -১৪ বছর বয়সী অনেক শিশুকে ও লেগুনাতে চালক কিংবা চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা আনফিট গাড়ীর বিষয়ে উর্দ্ধতন মহলের সাথে আলোচনা তদারকি বৃদ্ধি করবো শীঘ্যই। ফিটনেস ও কিশোর ড্রাইভারদের বিষয়ে কঠোর পদপে নিবো শীঘ্রই বলে জানান।