রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী জলকেলীর উৎসব

image_73500.coxs bazar

 

কক্সবাজারে রাখাইন সমপ্রদায়ের জলকেলীর ৩ দিনব্যাপী মূল উৎসব শুরু হচ্ছে বৃহম্পতিবার থেকে। এ উপলক্ষে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কাল ১৭ এপ্রিল থেকে ‘সাগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলীর মূল উৎসব শুরু হলেও পুজা পার্বনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে আজ থেকেই। আজ ছিল রাখাইন মগী সনের ১৩৭৪ বর্ষের বিদায়। আজ শুরু হলো ১৩৭৫ মগী সন।আজ শহরের বিভিন্ন রাখাইন পল্ল­ী ঘুরে দেখা গেছে, শহরের গোলদিঘীর পাড়, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বায়তুশ শরফ রোড, টেকপাড়া, মাছ বাজার এলাকা, হাঙ্গরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জলকেলী উৎসব ও পুজা পার্বনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের নববর্ষ উৎসব প্রতি বছরের মত এবারও বেশ ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাখাইনরা। এ উপলক্ষে কক্সবাজার পৌরসভার ১৭ রাখাইন পাড়ায় চলছে জোর প্রস্তুতি। রাখাইনদের এ উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যাথা-বেদনা, গ্লানি ভূলে গিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজেগুজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করে। এসময় বাদ্য বাজিয়ে নাচ-গানসহ চলে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। সাথে ঢাক-ঢোল আর কাঁশার তালে-তালে নেচে উঠবে রাখাইন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাদের প্রাণ।শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন তরুণী মালা রাখাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ দেখছি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র ও উৎসবের দিন।’শহরের বৌদ্ধ মন্দির এলাকার বাসিন্দা মংথেলা রাখাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা তিন দিনব্যাপী ‘সাগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলী উৎসবের আয়োজন করে থাকি। এটি রাখাইন পল্লীগুলো ছাড়িয়ে পুরো এলাকায় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।’কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও আরডিএফ’র সভাপতি ক্য থিং অং কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাংগ্রে পোয়ে’ বা জলকেলী উৎসব হচ্ছে রাখাইনদের সামাজিক একটি উৎসব। কাল থেকে তিনদিন ব্যাপী সাংগ্রে শুরু হচ্ছে। রাখাইন সমপ্রদায়ের নর-নারীরা বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে। এটি চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘রাখাইনদের জলকেলী উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও মাঠে থাকবে।’উল্লেখ্য, রাখাইন বা মগী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ বুধবার বিদায় নিয়েছে রাখাইন পুরনো বছর ১৩৭৪। আজ শুরু হয়েছে ১৩৭৫ মগী সন। একই ক্যালেন্ডার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারেও অনুসরণ করা হয়। সেখানে এ ক্যালেন্ডারকে বার্মিজ ক্যালেন্ডার বলা হয়ে থাকে।