বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৭ মাঘ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

pic-09_195771
পরাধীনতার শেকলে বন্দি বাঙালি জাতি তখন স্বাধীনতার জন্য অধীর অপেক্ষায়। শুধু প্রয়োজন একটি ঘোষণার, একটি আহ্বানের। অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এলো সেই ঘোষণা। কবির ভাষায়, “শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,/ রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/ অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।/ তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা।/ জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।/ কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?/ গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি;/ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।”
সেই ‘অমর-কবিতাখানি’ সেদিন যিনি শুনিয়েছিলেন তিনিই হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখনকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ডাক দিয়েছিলেন তিনি স্বাধীনতার। বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি, তখন রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব-  ইনশা আল্লাহ!’
বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে জেগে উঠেছিল মুক্তিপাগল জনতা। পেয়েছিল স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। মুক্তিকামী বাঙালি নিয়েছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
আজ সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ১৯ মিনিটের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। আগুন জ্বালিয়েছিলেন কোটি প্রাণে। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে… প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।’
সেদিন স্বাধীনতার ডাক শোনার জন্য প্রতিটি মানুষের একমাত্র গন্তব্য হয়ে উঠেছিল রেসকোর্স ময়দান। এরপর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাঙালি জাতি ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র লড়াই, ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। শুরু হয় বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের গৌরবযাত্রা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আজ বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে পত্রপত্রিকা।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিনভর নানা কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৩টায় এক জনসভা; যাতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করতে দলীয় নেতা-কর্মী ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জয় বাংলা কনসার্ট : ৭ মার্চ উপলক্ষে রাজধানীতে জয় বাংলা কনসার্টের আয়োজন করেছে ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফরম। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের তত্ত্বাবধানে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে। দুপুর দেড়টায় এ স্টেডিয়ামের গেট খোলা হবে। বিনা মূল্যে ৩০ হাজার তরুণ এ কনসার্ট উপভোগ করতে পারবে। সারা রাত চলা এ কনসার্টে দেশের বিখ্যাত ব্যান্ড দল ও গায়করা গান গাইবে।