রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

এবার রোডমার্চে খালেদা

zia1_47622

 

নতুন নির্বাচনের দাবিতে চলতি ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে রোডমার্চ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল- এই তিন শহরে রোডমার্চের কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে। এ রোডমার্চ হবে ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে। রোডমার্চ শেষে নতুন বছরের শুরুতে জানুয়ারিতেই চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। তবে ‘জনসম্পৃক্ত ও শান্তিপূর্ণ’ রোডমার্চ কর্মসূচিতে বাধা দিলে সেখান থেকেই কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সূত্রমতে, নতুন বছরের প্রথম মাসে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেই হরতাল কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এর আগে নারায়ণগঞ্জে ১৩ ডিসেম্বর ২০-দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। এদিকে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে নব্বইয়ের দশকের সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন করবে বিএনপি। নব্বইয়ের দশকের ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে ১৮ ডিসেম্বর এ কনভেনশন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান। এরপর ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের মহাসমাবেশে অংশ নেবেন বেগম জিয়া। এর আগে একই দাবিতে কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নাটোর, নীলফামারীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় জনসভা করেন তিনি। জানা গেছে, সম্প্রতি কিছু নেতার সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়া আলাপকালে এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘চূড়ান্ত আন্দোলন শুরুর আগে বিজয়ের পুরো মাস আমাদের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালন করতে হবে। আমাদের জনসভাগুলোয় মানুষের অংশগ্রহণ দেখলেই বোঝা যায়, তারা (ক্ষমতাসীন দল) আমাদের ধারেকাছে নেই। তাই আমরা এ মাসে আরও কিছু জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালন করতে চাই।’ রোডমার্চ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে আমরা আরও কিছু জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালন করতে চাই। সরকার বাধা দিলে ‘যেখানে বাধা সেখান থেকেই আন্দোলন’ কর্মসূচি দেওয়া হবে।” বিএনপি সূত্র জানায়, ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনের ওয়ার্মআপ শেষ করে ডিসেম্বরে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলো শেষ করবে তারা। এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করতে চায় দলটি। মঙ্গলবার ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে সভাপতি ও এস এম শফিউজ্জামান খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ১৯১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত হতেই আন্দোলনের একটু সময় নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এক জনসভায় স্বীকার করেছেন খোদ বিএনপি চেয়ারপারসনও। তবে বিজয়ের মাসেই সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মহানগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা। তার মতে, ‘প্রায় ৮০ ভাগ কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। আর ২০ ভাগ কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে। এর পরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে আন্দোলনে যেতে চাই আমরা।’ সূত্রমতে, জনসভায় ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এবার রোডমার্চেও জনতার ঢল নামাতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে চট্টগ্রামের রোডমার্চে অন্তত ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর চিন্তাভাবনাও চলছে। একইভাবে বরিশাল ও সিলেটেও এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ রোডমার্চ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে ২০ দলের।