শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

একই দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের দু’গ্রুপের পৃথক সমাবেশ

ganojagoron -------------1_152983
একই দাবিতে শাহবাগ চত্বরে পৃথক সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চের দুই গ্রুপ। এক অংশের নেতৃত্ব দেন ইমরান এইচ সরকার, অন্য অংশের নেতৃত্ব দেন কামাল পাশা। এ দুই অংশ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে পৃথক কর্মসূচিও। ১৯ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ইমরান এইচ সরকার। আর কামাল পাশা ঈদের পর বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল চারটায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে পৃথকভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। পৃথক সমাবেশ থেকে জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান হয়।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকাল চারটায় সমাবেশের ঘোষণা দেয় মঞ্চের দুই গ্রুপ। বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে বৃষ্টি থামলে জাদুঘরের সামনে উত্তর ফটকে অবস্থানে নেয় কামাল পাশা চৌধুরী সমর্থিত মঞ্চের কর্মীরা এবং দক্ষিণ ফটকে অবস্থান নেয় ইমরান এইচ সরকার সমর্থিত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। স্বল্প দূরত্বে দুই গ্রুপের সমাবেশ হওয়ায় মাইকের বিকট শব্দে বেশির ভাগ সমর্থকই ক্ষোভ জানিয়েছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে কামাল পাশা বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীতি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তার ফাঁসি না হওয়াতে আমরা ক্ষুব্ধ। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা এবং দেশপ্রিয় মানুষ মেনে নিতে পারেনা। জনগণের আকাঙ্খা পুরণে অচিরেই সাঈদীর ফাঁসির রায় দিতে হবে। এসময় তিনি জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ এবং সকল যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচারেরও দাবি জানান।
এছাড়া আগামী ঈদের পর দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করতে গণজাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। কামার পাশা আরও জানান, সমন্বয় কমিটি গঠনের পর দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়ে দেশের সকল বিভাগ এবং পরবর্তীতে জেল শহরে এ সমাবেশ করা হবে। তিনি বলেন, যেই অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন শুরু সেই ৪২ জন অনলাইন এক্টিভিস্টের দুই-তিন জন ছাড়া সকলেই আমাদের সাথে আছে। তাই গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে মঞ্চের একাংশের মুখপত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার যে রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে সরকারের জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তা সহজেই বোঝা যায়। ৪৭ ধারার মাধ্যমে রাষ্ট্র পক্ষের যে রিভিউ আবেদনের সুযোগ থাকে এ্যাটর্নি জেনারেল তা এখনও স্পষ্ট করেননি যে রিভিও আবেদন করবেন কি না। অপরদিকে সংবিধানের ৪৯ ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমার যে আইনটি রয়েছে তা বাতিলের জন্য গণজাগরণ মঞ্চ বার বার দাবি জানালেও তা বাস্তবায়নে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। এটি যুদ্ধপরধীদের বিচারের জন্য হুমকি।