মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪, ২৬ চৈত্র ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ইরাকে বিমান হামলা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ওবামার

2_132652

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে। মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক উপদেষ্টা এবং ইরাকে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান, ইয়াজিদি সম্প্রদায় ছাড়াও নিরপরাধ মানুষদের আইএসের হাত থেকে রক্ষার প্রয়োজনে এ হামলা চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বিমান হামলা চালানোর পর শনিবার সাপ্তাহিক ভাষণে ওবামা এ অঙ্গীকার করেন। বৃহস্পতিবার তিনি হামলার অনুমোদন দেন। তবে আইএস মার্কিন হামলাকে গ্রাহ্য করছে না। এক যোদ্ধা বলেন, মার্কিন হামলা কোনো প্রভাব ফেলবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রথম দফা হামলার পর আইএস যোদ্ধাদের অবস্থান, গাড়িবহরের ওপর চারটি ফাইটার জেট এবং একটি মানববিহীন ড্রোন দিয়ে আরও দু’বার হামলা চালানো হয়েছে। দ্বিতীয় দফার হামলায় আইএসের একটি মর্টার কেন্দ্র ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের একটি দলকেও হত্যা করা হয়েছে। এরই এক ঘণ্টা পর লেজার নিয়ন্ত্রিত বোমা দিয়ে সাতটি গাড়ির একটি বহরে হামলা করা হয়েছে। ভূমধ্য সাগরে থাকা একটি বিমানবাহী রণতরী থেকে ওই হামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।এদিকে ইরাকে জিহাদি যোদ্ধাদের হাত থেকে বাঁচতে সিনজার শহরের চারপাশের পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার বাসিন্দার উদ্দেশে শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো বিমান থেকে খাদ্য ও পানি ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলা হল। এক সপ্তাহ আগে আইএস যোদ্ধাদের অগ্রসরের মুখে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ৫০ হাজার সদস্য এখানে আশ্রয় নিয়েছে।পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সি-১৭ ও সি-১৩০ বিমান থেকে মোট ৭২ বান্ডিল ত্রাণসামগ্রী ফেলা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, ইরাকে আটকে পড়াদের কাছে জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি।সুন্নি মুসলিম সংগঠন আইএস সম্প্রতি ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নতুন এলাকা দখল করেছে এবং কুর্দি অধ্যুষিত ইরবিল নগরীও তারা দখল করতে পারে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে। এজন্য কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী ইরবিল রক্ষার জন্য লড়াই করছে। আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ইরাকের একটি বৃহত্তম জলাধার নিয়ন্ত্রণ করছে।আইএস যোদ্ধারা চলতি সপ্তাহে ইরাকের বৃহত্তম খ্রিস্টান শহর কারাখোশ দখলে নেয়। ফলে হাজার হাজার লোক শহর থেকে পালিয়ে যায়। শুক্রবার ইরবিল শহরের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আইএস যোদ্ধাদের গোলন্দাজ ইউনিট লক্ষ্য করে প্রথম মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়। পরে পেন্টাগন দ্বিতীয় দফা হামলার কথাও জানায়।
আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা গোষ্ঠীটির কার্যকলাপের ভিত্তিতে চালানো হবে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোনো সময় নির্দিষ্ট করে দেননি বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট।প্রাথমিকভাবে আইএস যোদ্ধাদের ইরবিল অভিমুখে অগ্রসর হওয়া ঠেকানোই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, আইএসের হুমকি মোকাবেলায় এই পদক্ষেপ দরকার হয়ে পড়েছে।ইরাকের সামরিক বাহিনী প্রধান আশা প্রকাশ করেছেন, তাদের বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধারা অতিদ্রুত বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। আইএস নিয়ন্ত্রিত অন্য শহরেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে বলে তিনি মনে করেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।