শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ইরাকে বিপদে আছে বাংলাদেশিরা

iraq_15458

যুদ্ধকবলিত ইরাকে বিপাকে আছে বাংলাদেশিরা। দেশটির বেশ কিছু শহরে ইরাকি সেনা ও সুন্নি জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ এখন গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। এরইমধ্যে ঝুঁকিতে দিন পার করছে অভিবাসীরা। দেশটিতে ভারতের ১০ হাজার ও বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে। এর একটি বড় অংশই সংঘর্ষ চলা এলাকাগুলোতে কাজে নিয়োজিত। তারা এলাকা ছাড়তে চাইলেও গোলাগুলির কারণে পারছেন না।

ইরাক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক শেখ বেলাল টেলিফোনে বলেন, ‘আমরা সরকারি বাহিনীকে যেমন ভয় পাই, তেমনি বিদ্রোহীদের নিয়ে আতঙ্কিত। কিছু নড়তে দেখলে তার ওপরই গুলি ছুড়ছে সেনাদের হেলিকপ্টার। আমরা যেতে চাই, কিন্তু পারছি না।’ আজ শুক্রবার ইউএনবির খবরে এ কথা জানানো হয়।

বেলাল জানান, গত বুধবার তিকরিত শহরে ইরাকি সেনা ও সুন্নি জঙ্গিদের মধ্যে যখন সংঘর্ষ চলছে, এ সময় গোলাগুলি থেকে রক্ষা পেতে শেখ বেলাল ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক একটি গুদামে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় ইরাকে বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সংঘর্ষ থামলে উদ্ধার করা হবে বলে আশ্বাস দেন। পরে দূতাবাসের সহায়তায় তারা মুক্তি পান।

আক্ষেপ করে বেলাল বলেন, এটি তাদের দুর্ভাগ্য। তারা সবাই ইরাকে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে চান।

২৯ বছরের বেলাল বাংলাদেশের একজন কৃষক। তিনি গত বছর ইরাকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। বেশি উপার্জনের আশায় ইরাকে যাওয়ার পরে বাংলাদেশি, ভারতীয় ও নেপালি শ্রমিকদের জীবন রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। তাদের প্রায়ই জঙ্গি ও সেনাদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়তে হয়। জীবন থাকে হুমকির মুখে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শওকত হোসেন বলেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে ইরাক থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, বাগদাদের বাংলাদেশি দূতাবাস ৫১ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে গত মাসে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মসুল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে।