রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান মামুনুলরা

41799_2221

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ফুটবল দল সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। শেখ মোহাম্মদ আসলামের গোলে সেবার নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গত পরশু সেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিলেন মামুনুল ইসলাম। তার দেয়া গোলেই ইনচন এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে জয়ে শুরু করেছেন তারা। স্বাভাবিক ভাবেই জয়টি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের কাছে একটি বেশি আনন্দের। এই জয়ে এতো আন্দোলিত হওয়ার কারণও রয়েছে অনেকের কাছে। এই দলে অনেক ফুটবলার রয়েছেন যাদের কাছে এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম জয়। তাও আবার আফগানিস্তানের মতো দলের বিরুদ্ধে যারা কিনা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ৩১ ধাপ। তাই কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ তরুণ এসব ফুটবলারদের জয় উপভোগ করতে দিলেন নিজের মতো করে।
ম্যাচের পরের দিন কোন অনুশীলন রাখেননি ক্রুইফ। সকালে মিটিং আর বিকালে হালকা জিমের মধ্য দিয়েই দিনটি অতিবাহিত করেছেন মামুনুল-জাহিদরা। তবে কোচ অবসর দিলেও সেটা নিতে রাজি নন অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন আমাদের ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভাল খেললে পরেরটি ভাল খেলতে পারি না। এটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করব উজবেকিস্তান ম্যাচে। হংকং উজবেকিস্তান সঙ্গে ড্র করায় গ্রুপটা কঠিন হয়ে গেছে। তাই পরের দুই ম্যাচে ডু অর ডাই খেলার চেষ্টা করব। ওই ম্যাচে কিছুটা করতে পারলে হংকংকে ম্যাচে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবো আমরা। মিশুর পরিবর্তে জাহিদ দলে আসায় দলের আক্রমণ ভাগের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন মামুনুল। তার মতে মিশুর শূন্যস্থান হয়তো জাহিদকে দিয়ে পূরণ হবার নয়। কারণ মিশু খেলতো রক্ষণে আর জাহিদ খেলে আক্রমণে। তবে ওর কারণে আমাদের আক্রমণ ভাগে গতি ফিরে আসবে। এটা আমাদের দরকার ছিল।
ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুর মতে দলের প্রতিটি সদস্য মুখিয়ে আছে দেশকে কিছু দেবার জন্য। সারাদিন তারা এটাই বলেছে। কোচও চেষ্টা করছেন ছেলেদের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনার। সেটা করতে পারলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ। ইতিহাসের সাক্ষী হতে চাইছেন তরুণ গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটনও। সোহেলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই গোলরক্ষক দারুণ খেলেছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এতে আফগান কোচের বাহবাও পেয়েছেন লিটন। গতকাল নিজের স্বপ্নের কথা জানান এই গোলরক্ষক। ‘স্বপ্নের মতো রাত কেটেছে, প্রতিটি মুহূর্তই ঘুরে ফিরে আসছে ম্যাচ জয়ের স্মৃতিগুলো। কখনও কল্পনা করিনি অভিষেক ম্যাচেই আফগানিস্তানের মতো দলকে হারাবো। আর তাতে আমার বড় ভূমিকা থাকবে। এটা করতে পারায় আমাদের সাহস অনেক বেড়ে গেছে। আশা করছি এই সাহসই উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে কাজে আসবে।’
দলের ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়াও উজবেকিস্তানের ম্যাচের আগে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন আফগান জয়ের মধ্য দিয়ে। সামনের ম্যাচে এটা আমাদের সাহস যোগাবে। তবে এরই মাঝে উজবেকিস্তানকে আটকে দিয়ে গ্রুপটি কঠিন করে ফেলেছে হংকং। এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে পরের দুই ম্যাচের একটিতে অন্তত: জিততে হবে বাংলাদেশকে। সেটা হলে ইতিহাস করেই ফিরবে মামুনুলরা, যার সাক্ষী হয়ে থাকবে ইনচনের এশিয়ান গেমস খেলতে আসা তরুণ ফুটবলাররা।